কোনো প্রকার বড়সড় অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বাংলাদেশে সম্পন্ন হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। দিনভর টানটান উত্তেজনার পর বিকেলের দিকে শেষ হয় এই মহাযজ্ঞ। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন’: অধ্যাপক ইউনূস
ভোটগ্রহণ শেষে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেছেন যে, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গিয়েছে।
ভোটের হারের দিকে নজর
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলের এখন প্রধান কৌতূহলের বিষয় হলো—ভোটের চূড়ান্ত শতাংশ কত হবে? নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, বেলা দুটো পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে গড়ে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ভোটগ্রহণের শেষ কয়েক ঘণ্টায় সেই হার আরও বেশ কিছুটা বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা।
জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ
ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আধঘণ্টা আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দেশবাসী সচেতনভাবে ভোটকেন্দ্র দখলের অপচেষ্টা ও বিভিন্ন গভীর ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে।
তবে এরই সঙ্গে বেশ কিছু অভিযোগও তুলেছে দলটি। জামায়াতের দাবি অনুযায়ী:
- দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
- পোলিং এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁদের জখম করার ঘটনা ঘটেছে।
- ভোটার বিশেষ করে নারীদের হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
- বেশ কিছু এলাকায় নির্বাচনী কেন্দ্র দখলেরও চেষ্টা চলেছে।
নিরাপত্তা ও বিশৃঙ্খলা
ভোট শুরুর আগে কিছু বিচ্ছিন্ন গোলযোগের খবর পাওয়া গেলেও, সামগ্রিকভাবে কড়া নিরাপত্তার বলয়ে ভোটপ্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। যদিও কিছু সংবাদমাধ্যমে খালের অন্য পাড় থেকে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ভয়ংকর আক্রমণের খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তবে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
এখন জেলা ভিত্তিক ফলাফল আসার অপেক্ষা। সারা দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য।

