উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত মামলার জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত মামলার জরুরি শুনানির আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলায় আগাম শুনানির আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানিয়ে দিয়েছেন, পূর্বনির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী আগামী ৫ অক্টোবরই এই মামলার শুনানি গ্রহণ করা হবে।

আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুটি বিধানসভা কেন্দ্র— রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ওই দুই কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি ভোটারের আবেদন বর্তমানে ট্রাইবুনালে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে গত সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ফলে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে আইনি নিষ্পত্তি না হলে উপনির্বাচনেও এই ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী আদালতে আর্জি জানিয়ে বলেন, পূর্ববর্তী বিজ্ঞপ্তিতে শুনানির সম্ভাব্য তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর নির্দেশিত থাকলেও বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের তালিকায় তা পিছিয়ে ৫ অক্টোবর প্রদর্শিত হচ্ছে। বিচারাধীন আবেদনকারীরা যাতে পর পর দু’টি নির্বাচনে ভোটাধিকার বঞ্চিত না হন, সেই যুক্তিতেই জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়।

আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “এগুলি কেবল উপনির্বাচন, অন্য কিছু নয়।” পাল্টা যুক্তিতে আইনজীবী পুনর্বার উল্লেখ করেন যে, প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে হাজার হাজার বৈধ নাগরিক দ্বিতীয়বারের জন্য ভোটদান থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন। তবে প্রধান বিচারপতি তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আগামী ৫ অক্টোবরই বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে এই অসঙ্গতি দূরীকরণের কাজ শুরু হয়। যদিও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে বিপুল সংখ্যক মামলা এখনও ঝুলে রয়েছে। ট্রাইবুনালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ যাবৎ নিষ্পত্তিকৃত আবেদনগুলির মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশই বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবুও আইনি জটিলতা না কাটায় হাজার হাজার ভোটার পুনরায় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্মুখীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.