২০২৮ সালের অলিম্পিক্সে দীর্ঘ ১২৮ বছর পর ফিরছে ক্রিকেট। পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগেই মাত্র ৬টি করে দল অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। আইসিসির প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চল (Zone) থেকে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে একটি করে দেশ সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে। যদিও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) এখনও চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়নি, তবে ক্রিকেট সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার অভাবে তারা আইসিসির প্রস্তাবই মেনে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন পিছিয়ে যেতে পারে অস্ট্রেলিয়া?
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে নিউজ়িল্যান্ড পৌঁছে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সামনে সমীকরণটি জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- ওসেনিয়া অঞ্চলের লড়াই: বর্তমান র্যাঙ্কিং এবং পারফরম্যান্সের বিচারে নিউজ়িল্যান্ড যদি সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে তারা আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টপকে যাবে। সেক্ষেত্রে ‘ওসেনিয়া’ অঞ্চল থেকে সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে কিউইরাই।
- ধারাবাহিকতা: ২০০৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত একাধিকবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার রেকর্ড নিউজ়িল্যান্ডের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে শেষ সুযোগ
সরাসরি সুযোগ হাতছাড়া হলেও অস্ট্রেলিয়ার জন্য অলিম্পিক্সের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুসারে:
১. প্রতিটি অঞ্চলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলগুলোকে নিয়ে একটি আলাদা ‘যোগ্যতা অর্জন প্রতিযোগিতা’ হতে পারে।
২. সেই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল ষষ্ঠ দল হিসেবে অলিম্পিক্সের টিকিট পাবে।
২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক্স ও ভবিষ্যতের চাপ
২০২৮ সালের অলিম্পিক্সে সুযোগ না পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার জন্য চরম লজ্জার বিষয় হবে। এর প্রধান কারণ হলো ২০৩২ সালের অলিম্পিক্সের আয়োজক দেশ খোদ অস্ট্রেলিয়া (ব্রিসবেন)। সেখানেও ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আয়োজক দেশ হিসেবে ২০৩২-এ তারা সরাসরি খেললেও, তার আগের আসরে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা ক্রিকেট বিশ্বে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
| অলিম্পিক্স বছর | ভেন্যু | ক্রিকেটের স্থিতি |
| ২০২৮ | লস অ্যাঞ্জেলেস | প্রত্যাবর্তন (৬টি দল) |
| ২০৩২ | ব্রিসবেন | অন্তর্ভুক্ত (অস্ট্রেলিয়া আয়োজক) |
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মিচেল মার্শদের এই ব্যর্থতা কেবল একটি টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নয়, বরং অলিম্পিক্সের মতো মহোৎসবে দেশের প্রতিনিধিত্বকেও এখন খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

