রাজ্যের সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার বিজেপি বিধায়কদের অবিলম্বে উপদ্রুত অঞ্চলগুলিতে পৌঁছানোর নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার আয়োজিত রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই নির্দেশ জারি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা— বন্যাপীড়িত এলাকার মানুষের ঠিক কী কী প্রয়োজন, স্থানীয় স্তরে সরাসরি সেই খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে এবং প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গত মানুষের সহায়তায় যদি রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ দফতরের সাহায্যের প্রয়োজন পড়ে, তাও দ্রুততার সঙ্গে সমন্বয় করে উপদ্রুত এলাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় ত্রাণের বন্দোবস্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যাদুর্গত অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, “নিজের এলাকায় যান। বিডিও (BDO) অফিসে বসুন এবং উপদ্রুত এলাকা সরাসরি পরিদর্শন করুন।”
বন্যা ত্রাণের পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে মন্ত্রীদের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, কোথাও কোনো গোলমাল বা অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে অবিলম্বে প্রশাসনকে জানিয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সামনেই উৎসবের মরসুম। মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা, আসন্ন দুর্গাপূজার আগে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা হতে পারে। তাই শান্তি বজায় রাখতে মন্ত্রী ও বিধায়কদের নিজ নিজ এলাকায় বেশি সময় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারদের (SP) সঙ্গে প্রতিনিয়ত নিবিড় যোগাযোগ রেখে কাজ করতে বলা হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার ও নজরদারিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় বিধায়কদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র সুবিধাভোগীদের নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার চালাতে হবে। পাশাপাশি, এই সংক্রান্ত পোর্টালে যে সমস্ত আবেদন জমা পড়ছে, সরকারি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দলীয় স্তরেও নেতারা যেন নিয়মিত তার খোঁজখবর ও নজরদারি বজায় রাখেন।

