২০১১ সালে গৌতম গম্ভীরদের বিশ্বজয়ের অন্যতম কান্ডারি ছিলেন তৎকালীন ভারতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ গ্যারি কার্স্টেন। সময়ের আবর্তে গুরু-শিষ্যের ভূমিকা ও সমীকরণ বদলেছে। ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্বে এখন গৌতম গম্ভীর, আর প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা দলের ডাগআউটের সামলাচ্ছেন কার্স্টেন। গলে সিরিজের প্রথম টেস্টে গম্ভীরের ভারতের কাছে কার্স্টেনের শ্রীলঙ্কা ১৬৫ রানে পরাস্ত হওয়ার পর, দুই প্রাক্তন সহযোদ্ধাকে মাঠে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়।
ম্যাচ শেষে তাঁদের এই আলাপচারিতা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার কোচ গ্যারি কার্স্টেন নিজেই নিশ্চিত করেন যে তাঁদের মধ্যে স্মৃতিচারণার চেয়ে ক্রিকেট ও কোচিং সংক্রান্ত বিষয়েই বেশি কথা হয়েছে। কার্স্টেন জানান, “আমরা পুরনো দিনের কথা খুব একটা বলিনি। আমাদের আলোচনা হয়েছে মূলত কোচিং এবং এর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। আমরা দু’জনেই চাই টেস্ট ক্রিকেটের গুণগত উন্নতি ঘটুক।”
দুই দলই কীভাবে আরও উন্নত পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে পারে, তা নিয়েও তাঁদের মাঝে খোলামেলা কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। কার্স্টেনের সংযোজন, “আমরা নিজেদের দল এবং খেলার মান আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। খেয়াল করে দেখলাম, আমাদের দু’জনের ভাবনাচিন্তার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।”
মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য প্রাক্তন কোচের ওপর শেষ হাসি হেসেছেন গৌতম গম্ভীর। গলে আয়োজিত প্রথম টেস্টে দেবদত্ত পাডিক্কালের দুর্দান্ত ১৬৭ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৬২ রান তোলে ভারত। জবাবে শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস ২৮৪ রানে গুটিয়ে যায়, যেখানে সোনাল দিনুশা ১০০ রানের ইনিংস উপহার দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ১৯৩ রান করলে শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য ৩৭২ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায়। কিন্তু ভারতীয় স্পিনার মানব সুতারের মারাত্মক বোলিং (৬ উইকেটে) তাণ্ডবে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস ২০৬ রানে থমকে যায়। ১৬৫ রানের বিশাল জয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

