কোচ হিসেবে অজয় শর্মা অত্যন্ত কঠোর। তাঁর সাফল্যের মূল মন্ত্র ছিল— টি-টোয়েন্টি মানসিকতা বিসর্জন দিয়ে খাঁটি লাল বলের ক্রিকেট খেলা। দলের ক্রিকেটারদের জন্য তাঁর নির্দেশ ছিল স্পষ্ট:
- কোনো ঝুঁকি নয়: তুলে মারা বা ছক্কা হাঁকানোর ওপর ছিল কড়া নিষেধাজ্ঞা।
- উইকেটে টিকে থাকা: ওভার প্রতি রানের লক্ষ্য নয়, বরং কত বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকা যায়, তার ওপর জোর দেওয়া।
- তারকা প্রথা বর্জন: আইপিএলের তারকা আব্দুল সামাদকেও ভুল শট খেলে আউট হওয়ার অপরাধে পরের ম্যাচে বসিয়ে দিয়েছিলেন অজয়। তাঁর দলে ‘স্টার কালচার’-এর কোনো জায়গা নেই।
বোর্ড সভাপতির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাস এই জয়কে ২০২১ সালের জুন মাস থেকে শুরু হওয়া একটি প্রক্রিয়ার ফসল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষ কৃতিত্ব দিয়েছেন বোর্ড সচিব জয় শাহ-কেও। মানহাসের কথায়, “জয় ভাই নিজে উদ্যোগ নিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেটের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন এবং সবরকম সাহায্য করেছেন। অজয় ভাইয়ের অভিজ্ঞতা আর পরশ দোগরার নেতৃত্ব দলকে এক সুতোয় বেঁধেছে।”
ক্রিকেটারদের চোখে ‘অবিশ্বাস্য’ সাফল্য
বিজয়ীর ট্রফি হাতে নিয়ে অধিনায়ক পরশ দোগরা যেন কথা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি বলেন, “ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।” অন্যদিকে, ফাইনালের সেরা ক্রিকেটার শুভম পুন্ডির এবং টুর্নামেন্টের সেরা আকিব নবি— উভয়ের গলাতেই ঝরে পড়ল সংগ্রামের কথা। সীমিত সুযোগ-সুবিধা আর পরিকাঠামোর অভাবকে তাঁরা ঢেকে দিয়েছেন অদম্য পরিশ্রম দিয়ে।
এক নজরে জম্মু-কাশ্মীরের ঐতিহাসিক জয় সফর
| বিষয় | বিবরণ |
| ইতিহাস | ৬৬ বছর পর প্রথমবার রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন। |
| কোচ | অজয় শর্মা (সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার)। |
| মাস্টারপ্ল্যান | ২০২১ থেকে শুরু হওয়া বিসিসিআই-এর বিশেষ পরিকল্পনা। |
| টার্নিং পয়েন্ট | টি-টোয়েন্টি মানসিকতা ছেড়ে রক্ষণাত্মক ও ধৈর্যশীল ক্রিকেটে ফেরা। |
| সাফল্যের কারিগর | আকিব নবি, শুভম পুন্ডির, পরশ দোগরা ও আব্দুল সামাদ। |
এক সময় ইডেন গার্ডেন্সে দেশের জার্সিতে অভিষেক হওয়া অজয় শর্মার আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হয়েছিল শূন্য রানে। কিন্তু আজ ৬৬ বছর বয়সে সেই শূন্য থেকেই এক ক্রিকেট-বিচ্ছিন্ন দলকে দেশের সেরা করে তুললেন তিনি। ভারতের ভৌগোলিক মুকুটে আগামী এক বছর শোভা পাবে ঘরোয়া ক্রিকেটের এই শ্রেষ্ঠ রত্ন।

