চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছোট দলগুলোর দাপট অব্যাহত। নেপাল, আমেরিকা ও নেদারল্যান্ডসের পর এবার বিশ্বক্রিকেটের শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়াকে স্তব্ধ করে দিল জিম্বাবুয়ে। শুক্রবার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে অজিদের ২৩ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটন ঘটালেন সিকান্দার রাজারা।
জিম্বাবুয়ের লড়াকু ব্যাটিং
এদিন টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক ট্রাভিস হেড। তবে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর খাড়া করেন। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ৫৬ বলে ৬৪ রানের এক অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়া তাদিওয়ানাশি মারুমানি (৩৫) ও রায়ান বারল (৩৫) শক্ত ভিত গড়ে দেন। শেষ দিকে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা ১৩ বলে ২৫ রানের ক্যামিও খেলে স্কোরকে ১৭০-এর দোরগোড়ায় নিয়ে যান।
অজি ব্যাটিং বিপর্যয় ও মুজারাবানির দাপট
১৭০ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দিশেহারা হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র ২৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে যায় তারা। জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি জশ ইংলিস (৮), ট্রাভিস হেড (১৭), ক্যামেরন গ্রিন (০) ও টিম ডেভিড (০)।
মধ্যভাগে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (৩১) ও ম্যাট রেনশ (৬৫) ৭৭ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। ১৯.৩ ওভারে মাত্র ১৪৬ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুজারাবানি ১৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে অজি ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। ইভান্স নেন ২৩ রানে ৩ উইকেট।
পরিসংখ্যান ও মুখোমুখি লড়াই
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় হার। এর আগে ২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও অজিদের ৫ উইকেটে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে।
- বিশ্বকাপে মুখোমুখি: ২ বার (জিম্বাবুয়ে ২, অস্ট্রেলিয়া ০)
- সর্বমোট টি-টোয়েন্টি: ৪ বার (জিম্বাবুয়ে ২, অস্ট্রেলিয়া ২)
বোলিং পারফরম্যান্সের তুলনা
| বোলার (জিম্বাবুয়ে) | উইকেট | রান | বোলার (অস্ট্রেলিয়া) | উইকেট | রান |
| ব্লেসিং মুজারাবানি | ৪ | ১৭ | ক্যামেরন গ্রিন | ১ | ৬ |
| ব্র্যাড ইভান্স | ৩ | ২৩ | মার্কাস স্টোইনিস | ১ | ১৭ |
| রায়ান বারল | ১ | ৯ | অ্যাডাম জাম্পা | ০ | ৩২ |
অস্ট্রেলিয়ার তারকা বোলার অ্যাডাম জাম্পা, নাথান এলিস ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এদিন সম্পূর্ণ উইকেটহীন থাকায় স্কোর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জিম্বাবুয়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো।

