সোমবার প্রথম বাজেট পেশ শুভেন্দু সরকারের: শিল্প, ডিএ ও কৃষি নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

সোমবার প্রথম বাজেট পেশ শুভেন্দু সরকারের: শিল্প, ডিএ ও কৃষি নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

আজ, সোমবার বিধানসভায় প্রথম বাজেট পেশ করতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার দুপুর ১২টায় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই বাজেট পেশ করবেন। নির্বাচনের আগে দেওয়া একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং রাজ্যকে শিল্পমুখী করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা নিয়ে জনমানসে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তুঙ্গে।

দিল্লির জোড়া বৈঠক এবং বাজেটের দিশা

গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। এই বাজেটকে ঘিরে রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ইঙ্গিত মিলেছে অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক দিল্লি সফরে। গত বুধবার দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং নীতি আয়োগের ডেপুটি চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে একপ্রস্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক করেছেন স্বপন দাশগুপ্ত।

দিল্লিযাত্রার আগে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছিলেন:

“কর না বাড়িয়ে রাজ্য সরকারের আয় বাড়ানোই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

দিল্লির বৈঠক নিয়ে খোলসা না করলেও অর্থমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির জন্য একটি ‘বিশেষ নজরদারির’ প্রয়োজন রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।

নজরে কোন কোন ক্ষেত্র?

বাজেটে মূল ফোকাস কোন বিষয়গুলোর ওপর থাকতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা চলছে:

  • কৃষি ও নতুন প্রকল্প: সম্প্রতি ফলতায় একটি সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, কৃষকদের জন্য একটি নতুন প্রকল্প আসতে চলেছে। স্বভাবতই বাজেটে এই সংক্রান্ত বড় ঘোষণার আশা রাখছেন কৃষকেরা।
  • ডিএ বা মহার্ঘভাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (DA) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চলছে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কোনো সদর্থক ঘোষণা থাকে কি না, সেদিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন কর্মীরা।
  • তাজপুরের বিকল্প বন্দর: মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, তাজপুরের পরিবর্তে এবার দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার। বাজেটে এই পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে বরাদ্দ বা রূপরেখা ঘোষণা হতে পারে।

কেন্দ্রের আর্থিক সাহায্য ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের অর্থনৈতিক সঙ্কট দূর করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত শনিবারই প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারকে ইতিমধ্যে ৪০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং আগামীতে আরও ৬০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে।

ফলে বিপুল এই কেন্দ্রীয় সহায়তার ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বিজেপি সরকার রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে আগামী ৫ বছরের কী দিশা দেখায়, তার উত্তর মিলবে আজ অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.