বকেয়া ডিএ: সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য, বুধবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

বকেয়া ডিএ: সময়সীমা বৃদ্ধির আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য, বুধবার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলায় রাজ্য সরকারের করা সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদনের শুনানির দিন স্থির করল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী বুধবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম নির্দেশ

গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মামলার রায় দিয়েছিল। সেই রায়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল:

  • মোট বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে।
  • বাকি ৭৫ শতাংশ কত কিস্তিতে দেওয়া হবে, তা একটি কমিটি স্থির করবে।
  • কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি অবশ্যই ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

রাজ্যের আর্জি ও যুক্তি

আদালতের বেঁধে দেওয়া এই সময়সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার আবেদন জানিয়েছে নবান্ন। সময়সীমা বৃদ্ধির সপক্ষে রাজ্য মূলত আর্থিক ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত বেশ কিছু কারণ দর্শিয়েছে:

  • আর্থিক চাপ: বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা। রাজ্য বর্তমানে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং কেন্দ্রের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণের অনুমোদন এখনও মেলেনি।
  • নির্বাচনী খরচ: ২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের বিপুল খরচের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে রাজ্য।
  • ডিজিটালাইজেশন সমস্যা: ২০১৬ সালের আগের বহু কর্মীর তথ্য এখনও ডিজিটাল রেকর্ডভুক্ত হয়নি। হাজার হাজার পেনশনভোগীর তথ্য মেলানো এবং সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।
  • প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা: ডিএ গণনার জন্য একটি নতুন পোর্টাল তৈরির কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা জানিয়েছে, পোর্টালটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হতে আরও সময় প্রয়োজন।

আন্দোলনকারী ও আইনজীবীদের অবস্থান

রাজ্য সরকারের এই আবেদনকে ঘিরে আইনি ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম রাজ্যের এই ভূমিকাকে ‘ইচ্ছাকৃত বিলম্ব’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার চাইলে আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ২৫ শতাংশ বকেয়া মিটিয়ে দিতে পারত। স্রেফ কালক্ষেপ করার জন্যই এই আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে শীর্ষ আদালতে এই শুনানি হওয়ার কথা। আদালত রাজ্যের যুক্তি গ্রহণ করে সময়সীমা বৃদ্ধি করবে, নাকি কড়া অবস্থান বজায় রাখবে— এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.