ভারতীয় রাজনীতির ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক থেকে অবশেষে সরছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)। সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে নবনির্মিত তিনটি ভবনের একটি অত্যাধুনিক কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হতে চলেছে মোদী সরকার। শুক্রবার নতুন এই কমপ্লেক্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নতুন এই ঠিকানার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেবাতীর্থ’। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, জনসেবা ও সেবার মানসিকতাকে প্রতিফলিত করতেই এই নামকরণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ‘সেবাতীর্থ’ এবং ‘কর্তব্যভবন-১’ ও ‘কর্তব্যভবন-২’-এর উদ্বোধন করবেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় নবনির্মিত সেবাতীর্থ কমপ্লেক্সে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ঠিকানা পরিবর্তনের আগে সাউথ ব্লকের পুরনো দপ্তরে শেষবারের মতো মন্ত্রিসভার বৈঠক করবেন মোদী, তারপরই শুরু হবে স্থানান্তর প্রক্রিয়া।
কমপ্লেক্সের বিন্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর
নতুন এই প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় দপ্তরগুলোর বিন্যাস হবে নিম্নরূপ:
- সেবাতীর্থ (ভবন-১): প্রধানমন্ত্রীর প্রধান কার্যালয়।
- সেবাতীর্থ-২ ও ৩: ক্যাবিনেট সচিবালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের দপ্তর।
- কর্তব্যভবন ১ ও ২: এখানে অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, সংস্কৃতি, এবং তথ্য ও সম্প্রচারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রক স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই দুটি ভবনের মধ্যে উন্নত ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থা থাকবে।
সেন্ট্রাল ভিস্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ১০টি নতুন বহুতল সচিবালয় ভবন তৈরি করে সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রককে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসা। গত ১৪ অক্টোবর থেকেই পর্যায়ক্রমে দপ্তর স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথ ইতিমধ্যেই সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধানের সঙ্গে ‘সেবাতীর্থ-২’-এ বৈঠক করেছেন।
নর্থ ও সাউথ ব্লকের ভবিষ্যৎ: ব্রিটিশ আমলে ১৯১১ সালে কলকাতা থেকে রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরের পর রাইসিনা হিলসে তৈরি হয়েছিল এই ঐতিহাসিক ভবন দুটি। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, নর্থ ও সাউথ ব্লক সম্পূর্ণ খালি হওয়ার পর সেগুলিকে একটি জাতীয় সংগ্রহশালায় (Museum) রূপান্তরিত করা হবে। অন্যদিকে, স্বাধীনতার পর তৈরি হওয়া শাস্ত্রী ভবন বা নির্মাণ ভবনের মতো স্থাপত্যগুলো পর্যায়ক্রমে ভেঙে ফেলা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন
কেবল কার্যালয় নয়, প্রধানমন্ত্রীর আবাসের ঠিকানাও বদলাতে চলেছে। নর্থ ব্লকের পেছনে দারাশুকো রোডে তৈরি হওয়া প্রথম ‘এগ্জ়িকিউটিভ এনক্লেভ’-এ প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন নির্মিত হবে। এর আগে ২০১৬ সালে রেস কোর্স রোডের নাম বদলে ‘লোককল্যাণ মার্গ’ হওয়ায় তাঁর ঠিকানার পরিবর্তন হয়েছিল, তবে এবার আক্ষরিক অর্থেই এক নতুন চত্বরে প্রবেশ করছেন দেশের প্রধান সেবক।

