২৬-এর ভোটের আগে SIR-বিভ্রাট: নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি, নিশানায় নির্বাচন কমিশন

২৬-এর ভোটের আগে SIR-বিভ্রাট: নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি, নিশানায় নির্বাচন কমিশন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজ্যের রাজনীতি। ভোটার তালিকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহারের ফলে ভয়াবহ বানান বিভ্রাট এবং লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাকেত গোখলে।

AI-বিভ্রাটে ‘অমিত’ এখন ‘O-mit’!

সাংসদ সাকেত গোখলে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বিস্ফোরক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার তুলনা করতে কমিশন একটি ত্রুটিপূর্ণ সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, পুরোনো তালিকাটি AI-এর মাধ্যমে বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার সময় বানানে ভয়াবহ গরমিল হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি জানান, ‘অমিত’ নামটি পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে ‘O-mit’।

এই বানান ভুলের কারণে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (যৌক্তিক অসঙ্গতি) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাকেতের দাবি, এই সফটওয়্যার বিভ্রাটের জেরে প্রায় ১.৬৭ কোটি ভোটার প্রাথমিকভাবে সন্দেহের তালিকায় চলে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ৯৫ লক্ষ মানুষকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

‘লুকিয়ে নাম কাটছে কমিশন’, ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী

ভোটের মুখে এই পরিস্থিতি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ চলে যাবে। আমি নিজে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেছি। মামলা এখনও বিচারাধীন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও লুকিয়ে লুকিয়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।” আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত তালিকা প্রকাশের কথা রয়েছে।

মাইক্রো-অবজার্ভার ও আইনি জটিলতা

সাকেত গোখলের আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, SIR শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের ‘মাইক্রো-অবজার্ভার’ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই পর্যবেক্ষকদের বেআইনিভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গোপন নির্দেশিকা পাঠিয়ে নির্বাচন আধিকারিকদের অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৮০ লক্ষ বৈধ ভোটারের শুনানি মাত্র তিন দিনের মধ্যে শেষ করার অসম্ভব চাপ তৈরি করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ও ভোট পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বাংলার SIR-এর বাকি কাজ শেষ করতে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, অন্য রাজ্য থেকে বিচারক এনে কাজ শেষ করতে হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন ২৫০টি করে শুনানি নিষ্পত্তি করলেও বাকি কাজ শেষ করতে অন্তত ৮০ দিন সময় লাগবে।

এই বিশাল পরিমাণ কাজ এবং আইনি জটিলতার কারণে আগামী ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সফর স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি SIR জটিলতার জেরে পিছিয়ে যেতে পারে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.