মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হোয়াইট হাউস সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালেন আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। শনিবার চার দিনের দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে এসে পৌঁছন তিনি। এদিন দুপুরেই কলকাতা থেকে দিল্লিতে এসে পৌঁছন মার্কিন বিদেশসচিব এবং রাজধানীতে নেমেই ‘সেবাতীর্থ’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই বৈঠক চলে।
বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (প্রাক্তন টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী মার্কিন বিদেশসচিবের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয়বস্তুগুলি প্রকাশ্যে আনেন।
কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও বিশ্ব শান্তি নিয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর এক্স পোস্টে জানান, বৈঠকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার সুদৃঢ় কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লেখেন:
“আমরা ভারত ও আমেরিকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। শুধু তা-ই নয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও এই আলোচনায় উঠে এসেছে।”
কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের আবহে মার্কিন বিদেশসচিবের এই ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপন এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পক্ষে সওয়াল করে আসছে।
মোদী-ট্রাম্প বন্ধুত্ব ও ‘ঐতিহাসিক’ সফর
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই সফর কোনো ফাটল ধরা সম্পর্ক মেরামতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং দুই বিশ্বস্ত অংশীদারের মধ্যেকার গভীর যোগাযোগের এক অনন্য প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। আগামী কোয়াড (QUAD) সম্মেলন নিয়েও মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত আশাবাদী এবং সেখানে ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে মনে করেন সার্জিও গোর। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ‘দূরদৃষ্টির’ ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
পরে মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদেশসচিব মার্কো রুবিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে চমৎকার ব্যক্তিগত রসায়ন রয়েছে। দু’জনেই অত্যন্ত দায়িত্বশীল নেতা এবং তাঁরা সর্বদা দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর মনোনিবেশ করেন।
সফরের শুরুতে কলকাতায় রুবিও
শনিবার সকালে সস্ত্রীক ভারতে এসে পৌঁছন মার্কো রুবিও। তবে দিল্লির আগে তিনি দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী কলকাতায় নামেন। কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে তিনি সোজা চলে যান তালতলার মাদার হাউসে। সেখানে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় কাটানোর পর তিনি ‘নির্মলা শিশুভবন’ পরিদর্শনে যান। কলকাতার কর্মসূচি শেষ করেই দুপুরে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মার্কিন বিদেশসচিব।
| মার্কিন বিদেশসচিবের ভারত সফরের মূল সূচি |
| সকাল (কলকাতা): মাদার হাউস ও নির্মলা শিশুভবন পরিদর্শন। |
| দুপুর (নয়াদিল্লি): দিল্লিতে আগমন ও ‘সেবাতীর্থ’-এ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। |
| বৈঠকের সময়সীমা: ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনা। |
| প্রধান বার্তা: প্রধানমন্ত্রী মোদীকে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আমন্ত্রণ। |
আসন্ন কোয়াড সম্মেলনের আগে মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরের পর ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও একধাপ মজবুত হলো বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল।

