মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবং হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে ভারতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত হলো। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে ভারতকে সাময়িক ছাড়পত্র দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেনেট এক বিবৃতিতে ৩০ দিনের এই বিশেষ অনুমোদনের কথা নিশ্চিত করেছেন।
সংকটের প্রেক্ষাপট ও হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব
কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারতের ভাণ্ডারে বর্তমানে ২৫ দিনের পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। ইরান শুধুমাত্র রাশিয়া ও চিনের তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ছাড় দিলেও বাকি দেশগুলোর জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের মজুত ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
মার্কিন ছাড়পত্রের শর্ত ও সময়সীমা
আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির জন্য ৩০ দিনের একটি সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
- কার্যকরী তারিখ: ৫ মার্চ, ২০২৬ থেকে এই সময়সীমা শুরু হয়েছে।
- শেষ তারিখ: ৩ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত ভারত এই সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
উল্লেখ্য, এর আগে রাশিয়া থেকে তেল না কেনার শর্তে ভারতের ওপর শুল্ক কমিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কট বেনেট। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভারত আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং ভবিষ্যতে ভারত আমেরিকা থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়াবে বলে তারা আশাবাদী।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও রাশিয়ার প্রস্তাব
সূত্রের খবর, ভারতীয় জলসীমার কাছে রাশিয়ার প্রায় ১৫ লক্ষ ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা ভারত ব্যবহার করতে পারে বলে মস্কো আগেই প্রস্তাব দিয়েছিল। এদিকে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে গত বৃহস্পতিবার ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরই মনে করা হচ্ছিল যে, হরমুজ সংকটের প্রভাব ভারতের ওপর খুব একটা পড়বে না।
আমেরিকার এই ছাড়পত্রের ফলে ভারত এখন রাশিয়ার সেই মজুত তেল ব্যবহার করতে পারবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।

