সিরিজ়ের মাঝপথে দলের খোলনলচে বদলে কোচ বরখাস্ত ও সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ করেও কোনো লাভ হলো না। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এজবাস্টনে তৃতীয় তথা শেষ টেস্টের প্রথম দিনেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ সম্পূর্ণ ধসে পড়ে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে গেল।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান এই তিন টেস্টের সিরিজে পাকিস্তান দল এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে মাত্র ৭২২ রান সংগ্রহ করতে পেরেছে। তুলনামূলকভাবে, গত ইংল্যান্ড সফরে ভারতের তরুণ ব্যাটার শুভমন গিল একাই পাঁচ টেস্টের সিরিজে ৭৫৪ রান করেছিলেন। পাকিস্তানের হাতে এই টেস্টের একটিমাত্র ইনিংস বাকি থাকায় এই লজ্জাজনক পরিসংখ্যানটি দলের বর্তমান বেহাল দশাকেই স্পষ্ট করে।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর গত এক সপ্তাহে পাকিস্তান ক্রিকেটে ব্যাপক রদবদল ঘটে। প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি একসঙ্গে সাত জন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এমন নাটকীয় পরিবর্তনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এজবাস্টনে দলে চারটি পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। কিন্তু টসে জিতে ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর পরই পাক দলের পুরনো ব্যাটিং দুর্বলতা আবারও মারাত্মকভাবে প্রকাশ পায়। মাত্র তিন জন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সক্ষম হন। ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে জশ টং ৪টি এবং ওলি রবিনসন ও জফ্রা আর্চার ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
দলে ফেরা ওপেনার সাইম আইয়ুব খাতা খোলার আগেই রবিনসনের শিকার হন। এটি টেস্ট ক্রিকেটে রবিনসনের শততম উইকেট। এরপর আজান আওয়াইস, আব্দুল্লাহ শফিক এবং অধিনায়ক শান মাসুদ দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। বলের উচ্চতা বুঝতে না পেরে জশ টংয়ের বলে বাবর আজম বোল্ড হলে পাকিস্তানের দুর্দশা আরও বেড়ে যায়। টং এরপর অভিষিক্ত গাজী ঘোরি ও ইমরান রানধাওয়াকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই পাকিস্তানের ৭ উইকেট তুলে নেন।
এই চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন একমাত্র সৌদ শাকিল। লর্ডসে ৯৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলা এই বাঁহাতি ব্যাটার এজবাস্টনেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন।
ম্যাচ শুরুর আগে মাঠের বাইরের সমস্ত বিতর্ক ও সমালোচনাকে দূরে সরিয়ে খেলায় মনোযোগ দেওয়ার দাবি করেছিলেন বাবর আজম। কিন্তু প্রথম দিনের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিল যে, মাঠের বাইরের আমূল রদবদলও মাঠের ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেনি।

