এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্যমৃত্যু: পটাশপুরের বাড়িতে শোকের ছায়া, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

এনআরএস হাসপাতালে নার্সের রহস্যমৃত্যু: পটাশপুরের বাড়িতে শোকের ছায়া, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পরিবারের

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (এনআরএস) কর্তব্যরত অবস্থায় এক নার্সের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত নার্সের নাম রুপালি বর্মন। বুধবার গভীর রাতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের শৌচালয় থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় গভীর শোক ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে নিহতের পরিবারে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা অর্জুনচন্দ্র বর্মন।

শৌচালয়ে উদ্ধার দেহ, মেলেনি স্পষ্ট উত্তর

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে স্ত্রীরোগ বিভাগে নাইট ডিউটিতে ছিলেন রুপালি। ডিউটি চলাকালীন তিনি শৌচালয়ে যান। সেখান থেকেই পরবর্তীকালে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গিয়েছে, নিহতের কনুইয়ের কাছে ইঞ্জেকশনের দাগ দেখা গিয়েছে এবং শৌচালয় থেকে তিনটি ওষুধের শিশি উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে পরিবার এখনও সম্পূর্ণ অন্ধকারে।

অর্ধে রাতে মৃত্যুর খবর, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার

বুধবার রাত ১২টা নাগাদ জামাইয়ের ফোন পেয়ে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান পটাশপুরের বাসিন্দা অর্জুনচন্দ্র বর্মন। আকস্মিক এই খবরে কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। অর্জুনবাবু জানান, “মেয়েটা আর নেই। রাতে জামাই ফোন করে জানাল। আমরা গ্রামে বসে তো কিছুই বুঝতে পারছি না। কী হয়েছে, না হয়েছে—পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখা হোক।”

ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন ও শেষ কথোপকথন

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় একটি নিজস্ব ফ্ল্যাট কেনার ইচ্ছা ছিল রুপালির। মাত্র ১৫ দিন আগে পটাশপুরে নিজের পৈতৃক বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। ফ্ল্যাট কেনার জন্য বাবার কাছে আর্থিক সাহায্য চাইলে অর্জুনবাবু ব্যাঙ্ক থেকে তুলে দুই লক্ষ টাকা মেয়ের হাতে দেন। অর্জুনবাবু জানান, গত সোমবার শেষ বার মেয়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। কারও সঙ্গে রুপালির আগে কখনো কোনো ঝামেলা হয়েছে বলে শোনেননি তিনি।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ও ময়নাতদন্ত বিতর্ক

রুপালির স্বামী রাহুল দাস একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। প্রায় তিন বছর আগে তাঁদের আইনি বিবাহ হয়েছিল এবং চলতি বছরের মার্চ মাসে সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়। কলকাতায় ভাড়া বাড়িতেই থাকতেন এই দম্পতি। রাহুল জানান, বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৮টা নাগাদ শেষ বার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল তাঁর। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তিনিও ধন্দে রয়েছেন।

এদিকে, এনআরএস হাসপাতালে স্ত্রীর দেহের ময়নাতদন্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন রাহুল। তাঁর আর্জি মেনে পুলিশ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।

সুবিচারের আর্জি পরিবারের

ঘটনার আকস্মিকতায় দিশেহারা বর্মন পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। সুবিচারের আশায় পূর্ব মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন নিহতের পিতা অর্জুনচন্দ্র বর্মন।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.