ডুরান্ড কাপের ফাইনালে হারের পর সিনিয়র দলের সামনে এই মুহূর্তে অন্য কোনো সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা না থাকায় এবং ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) শুরু হতে দেরি থাকায় কলকাতা ফুটবল লিগে সিনিয়র দলের ফুটবলারদের খেলাচ্ছে মোহনবাগান। রেলওয়ে এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচে সিনিয়র দলের মনবীর সিংহ ও সাহাল আব্দুল সামাদকে নামায় সবুজ-মেরুন শিবির। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে রেলওয়েকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক করল মোহনবাগান।
সুপার সিক্সে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে এখন প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের বিকল্প নেই মোহনবাগানের সামনে। রেলওয়েকে হারানোর ফলে ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করল তারা। এক ম্যাচ কম খেলা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে তারা।
এ দিন শুরু থেকেই রক্ষণ জমাট রেখে খেলার কৌশল নিয়েছিল রেলওয়ে এফসি। অভিষেক মারান্ডি ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের নেতৃত্বাধীন রেলওয়ের রক্ষণভাগ ভাঙতে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয় মোহনবাগানকে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ শানাতে থাকে সবুজ-মেরুন। দ্বিতীয় মিনিটে মনবীর অল্পের জন্য ক্রস মিস করেন এবং সপ্তম মিনিটে তাঁর বক্সের প্রবেশের চেষ্টা রুখে দেয় প্রতিপক্ষ রক্ষণ। এরপর কিয়ান নাসিরির শট আটকে দেন রেলওয়ে গোলকিপার সুদীপ্ত এবং সাহালের হেড পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। প্রথমার্ধের শেষ দিকে উমেশ মারান্ডির গোলে রেলওয়ে এগিয়ে গেলেও, বিরতির ঠিক আগেই পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান মনবীর সিংহ।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে খেলায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় মোহনবাগান। খেলা শুরুর দুই মিনিটের মাথায় সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের শট পোস্টে লাগে। এরপর ৫৩ মিনিটে কিয়ান নাসিরির পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রবিলাল মান্ডি। তার ঠিক দু’মিনিট পর তারক হেমব্রেমের একটি জোরালো শট অনবদ্য সেভ করে মোহনবাগানকে রক্ষা করেন গোলকিপার সৈয়দ জাহিদ হোসেন। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে দলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন সুহেল ভাট। এই জয়ে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করল মোহনবাগান।

