শিক্ষক দিবসের প্রস্তুতি ঘিরে বচসার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার রেজাউল করিম প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উদযাপনের রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনার সময় দুই শিক্ষাকর্মীর মধ্যে চলা বিবাদ শেষ পর্যন্ত হাতাহাতিতে গড়ায়। এক পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মী শিক্ষিকাকে বেধড়ক মারধর করার এবং ঘুষি মেরে তাঁর নাক ফাটিয়ে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে। প্রহৃত শিক্ষিকা কাবিরা সুলতানার দাবি, শিক্ষক দিবসে কী কী কর্মসূচি নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছিলেন এবং ছাত্রছাত্রীরাও তাঁকে কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর অজান্তেই স্কুলেরই অন্য এক শিক্ষিকা সেই প্রস্তাবগুলি নাকচ করে দেন। শনিবার স্কুলে পৌঁছানোর পর ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে পুরো বিষয়টি জানালে তিনি ওই সহকর্মীর কাছে কৈফিয়ত চান, যা থেকে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
শিক্ষিকার অভিযোগ, সেই তর্কের মাঝেই তাঁদের পক্ষ নিতে চলে আসেন স্থানীয় পার্শ্বশিক্ষক বাবলু শেখ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি আলোচনার মধ্যে ঢুকে পড়েন এবং কথা বলতে বলতে চড়-থাপ্পড় ও ঘুষি মারতে শুরু করেন। মারধরের চোটে শিক্ষিকার নাক দিয়ে রক্ত বেরিয়ে যায় বলে অভিযোগ। কাবিরা দেবীর আরও দাবি, ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে অতিরিক্ত ভালোবাসে বলেই ওই অভিযুক্ত শিক্ষিকারা তাঁর ওপর হিংসাবশত এমন আচরণ করেছেন। তিনি এও অভিযোগ করেন যে, অভিযুক্ত পার্শ্বশিক্ষক এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এবং তিনি স্কুলেও নিয়মিত আসেন না, উল্টে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের হুমকি দিয়ে থাকেন।
ঘটনার পর প্রহৃত শিক্ষিকাকে স্থানীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে তিনি সোজা হরিহরপাড়া থানায় গিয়ে অভিযুক্ত পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত পার্শ্বশিক্ষক বাবলু শেখ। উল্টো তাঁর দাবি, আলোচনা চলাকালীন ওই শিক্ষিকাই প্রথমে মেজাজ হারিয়ে তাঁকে জুতোপেটা করেন। উভয়পক্ষের পাল্লাপাল্লি অভিযোগে এখন দানা বেঁধেছে রহস্য। শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হরিহরপাড়া থানার পুলিশ।

