মামদানিকে অনুসরণ করে ফ্যাশন বদলাচ্ছেন ট্রাম্প! নাকি লালচে রঙেই ক্রমশ বাড়ছে আসক্তি?

মামদানিকে অনুসরণ করে ফ্যাশন বদলাচ্ছেন ট্রাম্প! নাকি লালচে রঙেই ক্রমশ বাড়ছে আসক্তি?

একদা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলা জোহরান মামদানি সম্প্রতি একই ফ্রেমে ধরা দিয়েছেন ট্রাম্পের সঙ্গে। আর সেখানে নিউইয়র্কের নব নির্বাচিত মেয়রকে খানিক প্রশ্রয় দিতেও দেখা গিয়েছে ট্রাম্পকে। পুরনো কটুকাটব্যকে পিছনে ফেলে মামদানির দিকে তারিফের চোখে তাকিয়েছেন ট্রাম্প, এমন দৃশ্যও ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। আর এ বার মামদানির প্রতি ট্রাম্পের ‘ভক্তি’র আরও একটি প্রমাণ দিলেন নেটাগরিকেরা। তাঁদের দাবি, মামদানিতে এতটাই মুগ্ধ ট্রাম্প যে, নিউ ইয়র্কের মেয়রের ফ্যাশনও অনুসরণ করছেন তিনি। আর তা নিয়েই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে।

এমনিতে ফ্যাশন নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্পের প্রসঙ্গ কমই উত্থাপন হয়। তবে এ ক্ষেত্রে আলোচনা হচ্ছে কারণ, ট্রাম্পের শীতের পোশাকের পছন্দ হুবহু মিলে গিয়েছে মামদানির একটি প্রচারের পোশাকের সঙ্গে। একটি সাম্প্রতিক ভিডিয়োয় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেখা গিয়েছে লালচে মেরুন টার্টলনেক সোয়েটারের সঙ্গে গায়ে কালো রঙের ওভারকোট চাপিয়ে ওয়াশিংটনের রাস্তায়। ঠিক এমনই পোশাক বছরখানেক আগে পরতে দেখা গিয়েছিল মামদানিকেও। ওই একই লালচে মেরুন টার্টলনেক সোয়েটারের সঙ্গে কালো কোট। তফাত এটুকুই যে ট্রাম্প কালো ওভারকোট পরেছেন আর মামদানি পরেছেন কালো রঙের ব্লেজ়ার। তবে কি সত্যিই ফ্যাশনবোধের জন্য আলোচিত মামদানি তাঁর সাজগোজে অনুপ্রাণিত করলেন ট্রাম্পকে? উঁহু। কিছু নেটাগরিক বলছেন, এর অন্য মানেও থাকতে পারে।

ফ্যাশনকে রাজনীতিতে নানা ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বহু বার। তা যেমন কোনও বিখ্যাত রাজনীতিকের কথা মনে করাতে ব্যবহৃত হয়েছে। পোশাকের রং দিয়ে চেনানো হয়েছে রাজনীতির রং। তেমনই আবার কোনও ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিতেও সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাজগোজ বিচক্ষণতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে। নেটাগরিকদের একাংশের দাবি, ট্রাম্প ভেবেচিন্তেই ওই পোশাক পরেছেন। কারণ, ওই একই ধরনের পোশাক পরে মামদানিকে দেখা গিয়েছিল ট্রাম্পের পূর্বসূ্রি প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। যে বাইডেন রাজনৈতিক ভাবে ট্রাম্পের বিরোধীপক্ষ। শত্রুর শত্রুকে ‘বন্ধু’ ভাবাই নিয়ম। নেটাগরিকদের বক্তব্য, ‘‘মামদানির ওই দিনের পোশাক বেছে নিয়ে ট্রাম্প হয়তো মনে করিয়ে দিয়েছেন, নিউ ইয়র্কের মেয়র তাঁর মিত্রপক্ষই। তাই আর যা-ই হোক মামদানির ভোট ব্যাঙ্ক যাতে ভুল করে ডেমোক্র্যাটদের দিকে না যায়। তাতে যদি মামদানির রাজনীতির রঙের সঙ্গে তাঁকে রং মেলাতে হয়, তাতেও আপত্তি নেই।’’

তবে সমাজমাধ্যমে আরও নানা ধরনের মতামত ঘুরতে দেখা গিয়েছে। কেউ লিখেছেন, আর এক প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এই একই রংমিলন্তি বেছে নিয়েছিলেন। তবে তিনি টার্টলনেক সোয়েটারের বদলে কোটের ভিতরে গলায় জড়িয়েছিলেন লালচে মেরুন স্কার্ফ। আবার কেউ লিখেছেন, ‘‘আসলে ট্রাম্প মামদানির আবেদনে ঘায়েল হয়েছেন। তিনি বোধ হয় আলফা মেল (দৃপ্ত পুরুষ)-দের প্রতি একটু বেশি আকৃষ্ট।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.