ওয়াশিংটন এবং বেজিঙের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ বলে অভিহিত করলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে এই সখ্যতার আবহের মধ্যেই তাইওয়ান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া সতর্কবার্তা দিতে ভোলেননি তিনি। বৃহস্পতিবার বেজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষবৈঠক শুরুর আগে জিনপিং স্পষ্ট জানান, চিন-আমেরিকা সম্পর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো তাইওয়ান এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ভুল পদক্ষেপ ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে।
আড়ম্বরপূর্ণ অভ্যর্থনা ও সফরসঙ্গী
দ্বিতীয় মেয়াদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম চিন সফর। বুধবার রাতে বেজিং পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে ঐতিহাসিক ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এর সামনে তাঁকে বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ট্রাম্পের এই তিন দিনের সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম টেসলা ও স্পেস এক্স-এর কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং অ্যাপল প্রধান টিম কুক। ইরান সংকটের জেরে উত্তাল আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
তাইওয়ান সংকট ও চিনের অবস্থান
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতেই তাইওয়ান ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন জিনপিং। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, তার রেশ এখনো কাটেনি। গণতান্ত্রিক দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে চিন বরাবরই নিজেদের ‘অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড’ বলে দাবি করে আসছে। জিনপিংয়ের এদিনের বার্তা মূলত সেই অনড় অবস্থানকেই পুনর্ব্যক্ত করেছে।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু: ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট
শীর্ষবৈঠকে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি গুরুত্ব পেয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি:
- হরমুজ প্রণালী: ইরান যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালীতে তৈরি হওয়া অবরোধ পরিস্থিতি নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধান দীর্ঘ আলোচনা করেন। হোয়াইট হাউসের এক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প এবং জিনপিং উভয়েই বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থে হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
- বাণিজ্য ও প্রযুক্তি: ইলন মাস্ক এবং টিম কুকের উপস্থিতিতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষ করে বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যৌথ উদ্যোগে কৃত্রিম মেধা (AI) প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক বাজার তৈরির বিষয়ে দুই দেশ ইতিবাচক আলোচনা করেছে।
সম্পর্কের নতুন সমীকরণ
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সফরে একদিকে যেমন তাইওয়ান ইস্যুতে চিনের অনমনীয় মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে দুই মহাশক্তিধরের সহযোগিতার বার্তাও উঠে এসেছে। ইরান সংকটের কারণে তৈরি হওয়া বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা কমাতে এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

