মারণরোগের মরণ কামড়ও দমাতে পারেনি তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে। ৮২টি কেমোথেরাপির অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেও ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন অদ্রিজা। রামকৃষ্ণ সারদা মিশন ভগিনী নিবেদিতা বালিকা বিদ্যালয়ের এই লড়াকু ছাত্রী ৪৮৭ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় যৌথভাবে দশম স্থান অধিকার করেছেন।
মারণরোগের হানা ও দীর্ঘ লড়াই
অদ্রিজার জীবন যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল যখন তিনি মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। শরীরে বাসা বেঁধেছিল ‘টি-সেল লিম্ফোমা ক্যানসার’। ফুসফুসে জল জমা এবং মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়ায় শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়ে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁর পরিবারকে পাড়ি দিতে হয়েছিল মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে। টানা ২ বছর ৮ মাস ধরে চলে যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা। এই দীর্ঘ সময়ে অদ্রিজাকে ৮২টি কেমোথেরাপি এবং কড়া ডোজের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সহ্য করতে হয়েছে।
বই ও সৃজনশীলতায় বেঁচে থাকার রসদ
শারীরিক ও মানসিক চাপের চরম মুহূর্তেও পড়াশোনা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেননি অদ্রিজা। অনিশ্চয়তার দিনগুলোতে তাঁর প্রধান সঙ্গী ছিল বই, গান আর আবৃত্তি। কলা বিভাগের (Arts) এই মেধাবী ছাত্রী এর আগেও থার্ড সেমেস্টারে ৯৭.৩৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। এই দীর্ঘ লড়াইয়ে অদ্রিজার পরিবার এবং রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুল তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অভাবনীয় সাফল্য ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের চূড়ান্ত ফলে ৪৮৭ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর পাঠ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল:
- ভূগোল
- অর্থনীতি
- কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন
- মনোবিদ্যা
জীবনযুদ্ধে জয়ী এই ছাত্রীর আগামী লক্ষ্য ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি (Clinical Psychology) নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা দিয়ে আগামী দিনে অন্যদের লড়াই করার সাহস জোগাতে চান অদ্রিজা। তাঁর এই সাফল্য কেবল একটি ভালো ফলাফল নয়, বরং ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াকু মানসিকতার এক জয়গাথা।

