টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শুরু হওয়ার আগেই উত্তাপ বাড়ছে ক্রিকেট মহলে। গ্রুপ পর্বের দাপুটে পারফরম্যান্সের পর এবার ভারতীয় দলকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল দুই প্রতিপক্ষ— ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়ে। দুই দলের অধিনায়কেরই দাবি, তাঁরা কেবল অংশ নিতে নয়, বরং বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছেন।
‘বদলে যাওয়া’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শাই হোপের রণকৌশল
গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের চারটি ম্যাচের সবকটিতেই জিতে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইডেনে ইতালির বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শাই হোপ জানান, তাঁদের দল এখন অনেক বেশি সংহত।
- বুদ্ধি ও শক্তির সংমিশ্রণ: হোপের মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ মানেই এখন শুধু গায়ের জোরে বিধ্বংসী ব্যাটিং নয়, বরং বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে দলীয় সংহতির সাথে খেলা।
- ভূমিকা স্পষ্ট: দলে প্রত্যেকের ভূমিকা সুনির্দিষ্ট। হোপ বলেন, “ভারত অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ এবং ওরা ছন্দে আছে। তবে আমরাও এখন জানি মাঠে নেমে ঠিক কী করতে হবে। আমরা এখানে কেবল খেলতে নয়, জিততে এসেছি।”
জিম্বাবুয়ের ‘আন্ডারডগ’ তকমা ও সিকান্দার রাজার আত্মবিশ্বাস
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সুপার এইটে পৌঁছে চমক দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়াকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে সিকান্দার রাজার দল।
- চাপমুক্ত ক্রিকেট: রাজা নিজেকে ‘আন্ডারডগ’ ভাবতেই পছন্দ করছেন। তাঁর মতে, এতে দলের ওপর চাপ কম থাকে।
- লক্ষ্য জয়: শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর রাজা জানান, “সুপার এইটের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি জিতলে যা খুশি হতে পারে। আমাদের বিশ্বাস, নিজেদের সেরাটা দিলে যেকোনো দিন যেকোনো দলকে আমরা হারাতে পারি। ভারতকে আমরা ভয় পাচ্ছি না।”
সুপার এইটে ভারতের সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস
সুপার এইটে ভারতের গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে সূর্যকুমার যাদবদের এই তিন কঠিন প্রতিপক্ষের বাধা টপকাতে হবে।
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু |
| ২২ ফেব্রুয়ারি | দক্ষিণ আফ্রিকা | আমদাবাদ |
| ২৬ ফেব্রুয়ারি | জিম্বাবুয়ে | চেন্নাই |
| ১ মার্চ | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা |
ঘরের মাঠে খেলা হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বর্তমান ফর্ম যে টিম ইন্ডিয়ার জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে, দুই অধিনায়কের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, ঘরের মাঠে সূর্যকুমাররা এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে সামাল দেন।

