ক্রিকেটের বাইশ গজে ব্যাট হাতে একের পর এক বিশ্বরেকর্ড গড়ে কিংবদন্তি হয়েছেন বহু আগেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বহু বছর আগে অবসর নিলেও ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সচিন তেন্ডুলকরের শারীরিক ফিটনেস এবং সুস্থ জীবনযাত্রা আজও বহু মানুষের অনুপ্রেরণা। ৫৩ বছর বয়সেও শরীরকে সতেজ ও সক্রিয় রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম আহার এবং খেলাধুলার ওপর ভরসা রাখেন ‘মাস্টার ব্লাস্টার’।
যে দুটি বদভ্যাস ত্যাগ করেছেন সচিন
সচিনের স্বাস্থ্যকর জীবনধারায় দুটি বদভ্যাস বর্জন করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য— প্রথমত চিনি এবং দ্বিতীয়ত জাঙ্ক ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা। সচিন নিজেই বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন যে তিনি সবসময় ঘরের তৈরি সাদামাঠা খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, মিষ্টি ও জাঙ্ক ফুড নিয়মিত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি প্রবেশ করে, যার ফলে ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকজনিত (মেটাবলিক) নানা সমস্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
নিয়মিত শারীরচর্চা ও রুটিন
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু খাবার এড়িয়ে চলাই নয়, সচিনের দীর্ঘস্থায়ী ফিটনেসের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর রুটিন। তাঁর প্রতিদিনের শারীরিক কার্যক্রমে নিয়মিত ব্যায়াম, পেশির শক্তিবৃদ্ধি (স্ট্রেন্থ ট্রেনিং), নমনীয়তা বাড়ানোর অনুশীলন এবং যোগাসন অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তাঁর ফিটনেস রুটিনের উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যায়াম হলো:
- ডাম্বেল স্কোয়াট
- লেগ প্রেসেস
- কেবল রোপ পুলওভার
- নিয়মিত স্ট্রেচিং ও যোগাসন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পেশির শক্তি ও ভর ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই কেবল হাঁটা বা দৌড়ানোর পাশাপাশি শরীরের প্রধান পেশিগুলোকে শক্তিশালী করে এমন ব্যায়াম রুটিনে রাখা উচিত। তবে সচিনের মতো পেশাদার ক্রীড়াবিদদের কঠোর শারীরচর্চা অন্ধভাবে অনুকরণ না করে প্রত্যেকেরই নিজের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্য অনুযায়ী সঠিক ব্যায়াম বেছে নেওয়া উচিত বলে মত চিকিৎসকদের।

