চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নেমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে পুলিশ। মণ্ডপে মোট ৩০টি সিসি ক্যামেরা বসানো থাকলেও তার মধ্যে ১৭টি চালু ছিল না। এমনকি, মণ্ডপের প্রস্থানপথে থাকা তিনটি ক্যামেরার মধ্যে দু’টিও বন্ধ ছিল। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ছবি পেতে তদন্তকারীদের বেগ পেতে হচ্ছে। চালু থাকা ক্যামেরাগুলির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মাত্র দু’ থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই মণ্ডপের ভিতরে ঘটে যায় ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্থানপথে থাকা তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে মাত্র একটির ফুটেজ সংগ্রহ করতে পেরেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি বুঝতে মণ্ডপের চার থেকে পাঁচটি ক্যামেরার ফুটেজ একসঙ্গে চালিয়ে ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
তদন্তের স্বার্থে চোরবাগান মণ্ডপে বসানো দু’টি ডিভিআরও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। একটি ডিভিআরে ১৪টি এবং অন্যটিতে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা। কিন্তু সূত্রের খবর, তার মধ্যে একটি ডিভিআর থেকে মাত্র ১৩টি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। বাকি ক্যামেরাগুলির ফুটেজ উদ্ধার করা যায়নি।
মণ্ডপের পরিকল্পনা ও শৈলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পালকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে মেদিনীপুর, চাকদহ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গিয়েছে লালবাজারের তদন্তকারী দল। বিশেষ করে, পুজোর প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় যাঁরা চোরবাগানের মণ্ডপে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে আহত ২৫ জনের সঙ্গেও কথা বলেছে পুলিশ।
চোরবাগান কাণ্ডের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রথম বৈঠক হয়েছে সোমবার। মহাকরণে প্রায় দু’ঘণ্টার বৈঠক শেষে সিটের প্রধান তথা কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানিয়েছেন, আগামী শনিবার থেকে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করবে কমিটি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর পুজোর প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ২৫ জন। কী ভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

