উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানে খাদ্য দফতরের অভিযান: রেস্তরাঁ ও ফুড কোর্টে মিলল পচা মাংস, অস্বাস্থ্যকর খাবার

উত্তর ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানে খাদ্য দফতরের অভিযান: রেস্তরাঁ ও ফুড কোর্টে মিলল পচা মাংস, অস্বাস্থ্যকর খাবার

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসাধু কারবারের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে খাদ্য দফতর, পুরসভা এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া ও মধ্যমগ্রাম এবং পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। রেস্তরাঁ ও শপিং মলের ফুড কোর্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে পচা মাংস ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী, যা ২০১৮ সালের কুখ্যাত ভাগাড়কাণ্ডের স্মৃতিকে ফের উস্কে দিয়েছে।

মুখ্যসচিবের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যে শুরু হওয়া ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ ও খাদ্যসুরক্ষা দফতরের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি চালানো হয়।

বাদুড়িয়ার রেস্তরাঁয় পচা মাংস উদ্ধার মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার দিদিমণি রোডে একটি নামকরা রেস্তরাঁয় হানা দিয়ে রান্নাঘর থেকে প্রায় ৪০ কেজি পচা মাংস উদ্ধার করেন আধিকারিকরা। এর মধ্যে মুরগি এবং খাসির মাংস মেশানো ছিল। রেস্তরাঁ কর্মীদের দাবি, মাংসগুলি ফেলে দেওয়ার জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছিল। যদিও সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে খাদ্য দফতর ওই রেস্তরাঁকে নোটিস দিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে রেস্তরাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় ঘোষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা চলছে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

মধ্যমগ্রামের মলে হানা একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনারই মধ্যমগ্রামের যশোর রোড সংলগ্ন স্টার মলের একাধিক ফুড কোর্টে। সেখানে ছত্রাক ধরা পচা মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারের প্যাকেট এবং পানীয়ের বোতল উদ্ধার করেন রাজ্য সরকারের খাদ্যমান পরীক্ষকেরা (ফুড সেফটি অফিসার)। আধিকারিকদের দেখতে পেয়ে কিছু ফুড কোর্ট কর্মী সেই খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। মলের তৃতীয় ও চতুর্থ তলের ফুড কোর্টগুলিতে তল্লাশি চালিয়ে অসঙ্গতি মেলায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন ফুড কোর্ট মালিকের ব্যবসায়িক লাইসেন্স বাতিল করা হয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই মলে আসেন, যার ফলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শক্তিগড় ল্যাংচা হাব ও অতীতের স্মৃতি অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানের বিখ্যাত শক্তিগড় ল্যাংচা হাবের একাধিক মিষ্টির দোকান, হোটেল, ধাবা ও রেস্তরাঁয় তল্লাশি চালিয়ে খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে ত্রুটি দেখতে পান আধিকারিকরা। কিছু নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য ও উপকরণ সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের এপ্রিলে বাদুড়িয়া থেকেই প্রথম রাজ্যের ভাগাড়কাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। সেবার মৃত পশু ও রাসায়নিক মিশ্রিত পচা মাংস হিমঘরে রেখে তা শপিং মল এবং বিভিন্ন রেস্তরাঁয় সরবরাহ করার চক্রের সন্ধান মিলেছিল। সাম্প্রতিক এই অভিযান সেই পুরনো আতঙ্ককেই ফের সামনে নিয়ে এল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.