দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতিকাণ্ড: মাস আর্ট সংস্থার সচিব ধ্রুবজ্যোতি গ্রেফতার, বাড়ছে তদন্তের পরিধি

দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতিকাণ্ড: মাস আর্ট সংস্থার সচিব ধ্রুবজ্যোতি গ্রেফতার, বাড়ছে তদন্তের পরিধি

দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস ও প্রিভিউ শোর টিকিট বিক্রিতে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। ধৃতের নাম ধ্রুবজ্যোতি বসু ওরফে শুভ। তিনি বেসরকারি সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় সেন্ট্রাল কলকাতার টেরিটি বাজার এলাকা থেকে তাঁকে লালবাজারের গোয়েন্দারা গ্রেফতার করেন। এই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের পর ধ্রুবজ্যোতিই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যাঁকে হেফাজতে নিল পুলিশ।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, রুজু হওয়া এফআইআরে ধ্রুবজ্যোতির নাম সরাসরি উল্লেখ ছিল। পুলিশের দাবি, ‘মাস আর্ট’ সংস্থাটি মূলতঃ ইন্দ্রনীল সেন এবং ধ্রুবজ্যোতি বসুর যৌথ পরিকল্পনা ও মস্তিষ্কপ্রসূত। এই সংস্থার আড়ালেই দুর্নীতির জাল বিস্তার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রের খবর, উক্ত সংস্থার শীর্ষপদে ছিলেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন। এফআইআরে তাঁর নাম থাকলেও তিনি পূর্বে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আইনি রক্ষাকবচ লাভ করেছেন। যদিও এই মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁকে দু’বার তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মন্ত্রীর কন্যাও বর্তমানে তদন্তকারীদের আতশিকাঁচের তলায় রয়েছেন।

এফআইআরে নাম থাকার পর থেকেই ধ্রুবজ্যোতি গোয়েন্দাদের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। দুর্নীতি চক্রে তাঁর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন তদন্তকারীরা। সম্প্রতি লালবাজারে ইন্দ্রনীল ও মধুছন্দাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরার সময়ও ধ্রুবজ্যোতির নাম উঠে আসে। জেরা চলাকালীন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারষ্পরিক দোষারোপ ও মতানৈক্য প্রকাশ্যে আসে বলে সূত্রের দাবি। মধুছন্দা জানান, তিনি বারণ করা সত্ত্বেও ইন্দ্রনীল তা শুনতেন না; অন্যদিকে ইন্দ্রনীলের দাবি, সমস্ত বিষয়েই অবগত ছিলেন তাঁর স্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর পরই গড়ে ওঠে এই ‘মাস আর্ট’ সংস্থা। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম বেআইনিভাবে ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর পাস ও প্রিভিউ শোর নামে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সরাসরি এই সংস্থার বোর্ডে না থাকলেও, ধ্রুবজ্যোতিই ছিলেন সংস্থার প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা প্রথম ব্যক্তি যিনি পুলিশে ধরা পড়লেন।

আর্থিক তছরুপের এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইতিপূর্বে ইডি আধিকারিকরা ইন্দ্রনীলের কসবার আবাসন ও সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় এবং তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে কলকাতা পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই মামলায় সংস্থার প্রেসিডেন্ট সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নামও এফআইআরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সমগ্র দুর্নীতি চক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালাবে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.