ভোটার তালিকায় গরমিল ও এসআইআর বিতর্ক: রাহুল-মমতাকে নিশানা অমিত শাহের, নাম খারিজে অনুপ্রবেশকারী তত্ত্ব

ভোটার তালিকায় গরমিল ও এসআইআর বিতর্ক: রাহুল-মমতাকে নিশানা অমিত শাহের, নাম খারিজে অনুপ্রবেশকারী তত্ত্ব

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে (এসআইআর) কথিত গরমিলের অভিযোগে বিরোধীদের সরব হওয়ার জবাবে পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার হায়দরাবাদে দলীয় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক বিশাল পদযাত্রায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পদযাত্রা শেষে আয়োজিত জনসভা থেকে বিরোধীদের আনা সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করার পাশাপাশি তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।

রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মঞ্চে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদব, এমএ বেবি ও নেহা বোরাসহ বিরোধী শিবিরের একঝাঁক শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থেকে এসআইআরের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। বিরোধীদের এই ‘শক্তি প্রদর্শনে’র পরদিনই মাঠে নেমে পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার ব্যাখ্যা ও শাহের আক্রমণ:

বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, এসআইআরের মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি বৈধ ভোটারের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অমিত শাহ স্পষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি—

  • প্রায় সাড়ে ৬ কোটি ভোটার নতুন ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছেন।
  • আনুমানিক ৩ কোটি ভোটার মারা গিয়েছেন।
  • প্রায় ১ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
  • বাকি ৩ কোটি ভোটারের প্রকৃতপক্ষে কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই; তাঁরা মূলত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী।

অমিত শাহ অভিযোগ করেন, “কংগ্রেস ও তাদের সহযোগী দলগুলি ভুয়ো ভোটারদের সহায়তায় নির্বাচন দখল করতে চায়। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরাই বিরোধীদের মূল ভোটব্যাঙ্ক, আর সেই কারণেই তারা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে।” বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি বলেন, “রাহুলবাবার আসল মাথাব্যথার কারণ হলো সেই ৩ কোটি নাম বাদ যাওয়া, যাদের ভারতে কোনো বৈধ অস্তিত্ব নেই এবং যারা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ করেছে।”

ভোটচুরির অভিযোগ ও বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য:

এসআইআর ব্যবহার করে বিজেপি নির্বাচনে জয়লাভ করছে— বিরোধীদের এই অভিযোগের জবাবে নরেন্দ্র মোদীর ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের বিপুল জয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন শাহ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “২০১৪ এবং ২০১৯ সালে যখন মোদীজি জিতেছিলেন, তখন তো কোনো এসআইআর হয়নি। তবে কীভাবে তখন এসআইআরের কারণে জেতার অভিযোগ তোলা হচ্ছে? মোদীজি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটেই জিতেছেন।”

একই সঙ্গে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বিজেপি মহারাষ্ট্রে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি হরিয়ানা, বিহার এবং ৩০ বছর পর দিল্লিতেও জয়লাভ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যটিতেও “দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) রাজনৈতিক শিকড় উপড়ে ফেলা হয়েছে।”

বক্তব্যের শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বিরোধী শিবির যতই বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করুক না কেন, বিজেপি সরকার ভোটার তালিকা থেকে সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দিতে এবং তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, শুধুমাত্র ভারতের বৈধ নাগরিকরাই দেশের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.