রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা গোস্বামী পরিবারে: পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেন বাম নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা কস্তুরী

রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা গোস্বামী পরিবারে: পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেন বাম নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা কস্তুরী

বাম রাজনীতির দীর্ঘদিনের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত গোস্বামী পরিবারে এবার বড়সড় পালাবদল। আরএসপির প্রয়াত শীর্ষ নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ক্ষিতি গোস্বামীর কনিষ্ঠা কন্যা কস্তুরী গোস্বামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিলেন। রাজ্য রাজনীতিতে সাড়া ফেলে দেওয়া এই যোগদান পর্বে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়।


এক পরিবার, তিন ভিন্ন রাজনৈতিক মেরু

ক্ষিতি গোস্বামীর পরিবারে রাজনৈতিক বৈচিত্র্য আগে থেকেই ছিল, তবে কস্তুরীর এই পদক্ষেপে তা পূর্ণতা পেল। পরিবারের বর্তমান চিত্রটি অনেকটা এইরকম:

  • পিতা (প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামী): আরএসপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং বাম আমলের দীর্ঘকালীন পূর্তমন্ত্রী।
  • মাতা (সুনন্দা মুখোপাধ্যায়): বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন।
  • দিদি (বসুন্ধরা গোস্বামী): বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য এবং কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর।
  • কনিষ্ঠা কন্যা (কস্তুরী গোস্বামী): একসময় আরএসপির ছাত্র সংগঠন পিএসইউ-এর সক্রিয় কর্মী থেকে এবার বিজেপির সদস্য।

‘বাবার মতোই প্রতিবাদী’— কেন বিজেপিকে বেছে নিলেন কস্তুরী?

বিজেপিতে যোগদানের পর কস্তুরী গোস্বামী তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে বাবার আদর্শকেই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন:

“আমার বাবা বরাবর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন। আমিও তাঁর সেই প্রতিবাদের পথেরই পথিক। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে শাসকের বিরুদ্ধে মুখ খোলা এবং প্রতিবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। আমার মনে হয়েছে, সেই প্রতিবাদের জন্য বিজেপিই সেরা মঞ্চ।”

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে আরএসপির প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্ব ছাত্র-যুব উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন কস্তুরী। পরিবারের মধ্যে তিনিই বাবার দলের আদর্শে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত ছিলেন বলে মনে করত রাজনৈতিক মহল। ফলে তাঁর গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া অনেককেই বিস্মিত করেছে।


অন্যান্য যোগদান

এদিন শুধুমাত্র কস্তুরী গোস্বামীই নন, আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  1. দীপাঞ্জন চক্রবর্তী: অবসরপ্রাপ্ত এনএসজি (NSG) কমান্ডো।
  2. জনৈক প্রাক্তন সিআরপিএফ (CRPF) আধিকারিক।
  3. আরও দুই বিশিষ্ট ব্যক্তি।

রাজ্য বিজেপির সদর দফতরে ঘটা এই যোগদান কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরের জন্য বাড়তি অক্সিজেন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাম পরিবার থেকে সদস্য সংগ্রহ করে বিজেপি তাদের ‘প্রতিবাদী’ ভাবমূর্তি আরও জোরালো করতে চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.