দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর টেস্ট ক্রিকেটে নিজের স্বপ্ন সফল করলেন দেবদত্ত পডিক্কল। শ্রীলঙ্কার গলে অনুষ্ঠিত টেস্টে সাই সুদর্শনের পরিবর্তে তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত শতরান হাঁকিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। শ্রীলঙ্কার শক্তিশালী স্পিন আক্রমণকে দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করে ১৬৭ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে নিজের এই সাফল্যের রহস্য এবং পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন পডিক্কল।
দীর্ঘ দু’বছর ধরে জাতীয় টেস্ট দলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন কর্ণাটকের এই ক্রিকেটার। শতরান অর্জনের পর নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তটার স্বপ্ন দেখে এসেছি। গত দু’বছর ধরে প্রচুর চেষ্টা করেছি এবং একটা সুযোগের অপেক্ষা করছিলাম। জানতাম এ রকম ইনিংস খেলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারব। আজ আমি সত্যিই খুব খুশি।”
স্পিন মোকাবিলার কৌশল ও ফুটওয়ার্ক: শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের সামলানোর জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন পডিক্কল। নিজের ব্যাটিংয়ের শক্তির ওপর ভরসা রেখেই তিনি ক্রিজে নেমেছিলেন। এই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “স্পিন খেলতে নামলে মাথায় সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা থাকতেই হয়। মাঠে নেমে হঠাৎ করে কিছু করে দেখানো যায় না। মাঠে নামার আগেই কিছু শট খেলার পরিকল্পনা মাথায় ছিল, যাতে বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করা যায়।”
এর আগে ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক পডিক্কলের ব্যাকফুটের অসাধারণ ফুটওয়ার্কের প্রশংসা করেছিলেন। সেই বিষয়ে পডিক্কল জানান, ক্রিজে নামার পর নিজের ভূমিকা ও করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে সঠিক ফুটওয়ার্ক বজায় রাখতে এবং প্রতিটি শট খেলার সময় শতভাগ নিশ্চিত হতে সাহায্য করেছে।
শতরানের পরের মানসিকতা: বড় ইনিংস খেলার খিদে এবং উইকেটে টিকে থাকার তাড়না তাঁকে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে বলে জানান পডিক্কল। তিনি আরও বলেন, “ক্রিজে ব্যাট করতে সব সময় আমার ভালো লাগে। শতরান হয়ে যাওয়ার পর স্বস্তি তো আসেই, কিন্তু আমি মনে করি শতরানের ঠিক পরের ২০-৩০টি বল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই সময়টা বাড়তি মনোযোগ দিয়ে খেলার চেষ্টা করি। সেঞ্চুরির পর যদি আরও ১০-১২টা বল ভালো খেলা যায়, তবে আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে যায়।”

