বিধ্বংসী ১১৫: সঞ্জুর রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে জয়ে ফিরল চেন্নাই

বিধ্বংসী ১১৫: সঞ্জুর রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে জয়ে ফিরল চেন্নাই

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার, ভারতের বিশ্বজয়ের কাণ্ডারি— অথচ চলতি আইপিএলের প্রথম তিন ম্যাচে তাঁর ব্যাটে ছিল রানের খরা। অবশেষে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে শনিবার জ্বলে উঠলেন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর অপরাজিত ১১৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর করেই জয়ে ফিরল চেন্নাই সুপার কিংস। ম্যাচ শেষে সঞ্জু জানালেন, মাত্র ‘৫০ সেকেন্ডের’ একটি বৈঠকই বদলে দিয়েছে দলের মানসিকতা।


ব্যর্থতা ঝেড়ে স্বমহিমায় সঞ্জু

আইপিএলের শুরুটা চেন্নাই এবং সঞ্জু, দুইয়ের পক্ষেই ছিল হতাশাজনক। প্রথম তিন ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল যথাক্রমে ৬, ৭ এবং ৯ রান। দলও টানা তিনটি ম্যাচে হারের মুখ দেখে। তবে দিল্লির বিরুদ্ধে ১১৫ রানের ইনিংস খেলে ফর্মে ফেরার পাশাপাশি দলকে কাঙ্ক্ষিত জয় এনে দিলেন ৩১ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।

শতরান পূর্ণ করার পর কেরলের এই ক্রিকেটারকে দেখা যায় রজনীকান্তের বিখ্যাত সিনেমা ‘পদয়াপ্পা’-র ভঙ্গিতে উদযাপন করতে। এই বিশেষ সেলিব্রেশন তিনি উৎসর্গ করেছেন কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংকে। সঞ্জুর কথায়:

“ওটা কোচ ফ্লেমিংয়ের জন্য ছিল। একটি ফ্র্যাঞ্চাইজ়িকে নেতৃত্ব দেওয়া কতটা কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, তা আমি জানি। তাই এই শতরান আমি ওঁকে উৎসর্গ করেছি।”


আস্থার মর্যাদা ও পারিবারিক পরিবেশ

নিলামের আগে থেকেই চেন্নাই সুপার কিংস তাঁর ওপর যে আস্থা রেখেছিল, শতরানের পর সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি সঞ্জু। তিনি জানান, নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি হলেও এখানে মানিয়ে নিতে তাঁর কোনও অসুবিধা হয়নি। দলের সাপোর্ট স্টাফ এবং সতীর্থদের আন্তরিক ও শান্ত স্বভাব তাঁকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

সঞ্জুর প্রত্যাবর্তনের পরিসংখ্যান:

  • পূর্ববর্তী তিন ম্যাচ: ৬, ৭, ৯ রান (চেন্নাই পরাজিত)
  • দিল্লি ম্যাচ: ১১৫* রান (চেন্নাই জয়ী)

‘৫০ সেকেন্ডের’ সেই ম্যাজিক বৈঠক

টানা তিন ম্যাচ হারের পর প্রত্যাবর্তনের রহস্য ফাঁস করে সঞ্জু বলেন, দিল্লি ম্যাচের আগে একটি ছোট বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৫০ সেকেন্ড। স্যামসনের মতে, এই সংক্ষিপ্ত এবং পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট আলোচনাটিই তাঁর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই ছিল এবং দলকে সঠিক দিশা দিয়েছে।

নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বকাপের সেরা এই ক্রিকেটার বলেন:

“আমি জীবনে বহুবার ব্যর্থ হয়েছি, কিন্তু কখনও আত্মবিশ্বাস হারাইনি। আমি জানি আমি কী করতে পারি। ক্রিকেটের সাধারণ ব্যাকরণগুলো মাথায় রেখেই সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে অনুশীলন সেরেছি।”


স্বস্তিতে সুপার কিংস শিবির

সঠিক সময়ে দলের ছন্দে ফেরায় স্বস্তিতে চেন্নাই শিবির। সঞ্জু মনে করেন, এই জয়ের ফলে দলে যে ছন্দ ফিরে এসেছে, তা আগামী ম্যাচগুলোতেও বজায় থাকবে। ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির আস্থার মর্যাদা দিয়ে টুর্নামেন্টে আরও বড় সাফল্য পাওয়াই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.