ক্রিকেটার বাবার অনুপ্রেরণা ও ভারত-পাক দ্বৈরথ: যেভাবে পেশাদার ক্রিকেটে উঠে এলেন অভিষেক শর্মা

ক্রিকেটার বাবার অনুপ্রেরণা ও ভারত-পাক দ্বৈরথ: যেভাবে পেশাদার ক্রিকেটে উঠে এলেন অভিষেক শর্মা

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিধ্বংসী ওপেনার অভিষেক শর্মার ক্রিকেটীয় উত্থান কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং মহাতারকাদের সান্নিধ্যের ফসল। ২৫ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি ব্যাটার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কীভাবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের উত্তেজনা তাঁকে পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল এবং যুবরাজ সিং ও ট্রেভিস হেডের পরামর্শ তাঁর খেলার ধরন বদলে দিয়েছে।


পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও শৈশবের অনুপ্রেরণা

অভিষেকের বড় হওয়া একটি নিখাদ ক্রিকেটীয় আবহে। তাঁর বাবা নিজে পঞ্জাবের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছেন এবং বর্তমানে কোচিং পেশার সঙ্গে যুক্ত। অভিষেক বলেন:

  • বাবার প্রভাব: “বাবাকে দেখেই ক্রিকেটের প্রতি প্রথম আগ্রহ জন্মায়। বাড়িতে সবসময় খেলার একটা পরিবেশ ছিল।”
  • ভারত-পাক দ্বৈরথ: “টিভিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বা বিশ্বকাপের লড়াই দেখে ভীষণ অনুপ্রাণিত হতাম। মনে হতো, একদিন আমাকেও দেশের হয়ে ওই বড় ম্যাচগুলোতে পারফর্ম করতে হবে।”

প্রতিভা চেনার মুহূর্ত

অনূর্ধ্ব-১২ পর্যায়ের একটি প্রতিযোগিতাই অভিষেকের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেখানে ব্যাট ও বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স করার পর তিনি আত্মবিশ্বাস পান যে, ক্রিকেটকেই পেশা হিসেবে নেওয়া সম্ভব।


যুবরাজ সিংয়ের সেই ‘গুরুমন্ত্র’

অভিষেকের এখনকার বিধ্বংসী মেজাজের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের অবদান। বিশেষ করে কোভিড লকডাউনের সময় যুবরাজের অধীনে নিবিড় প্রশিক্ষণ অভিষেকের মানসিকতা বদলে দিয়েছিল। যুবরাজ তাঁকে বলেছিলেন:

“আমি তোমাদের আইপিএল বা ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার জন্য তৈরি করছি না। তোমাদের তৈরি করছি দেশকে বড় ম্যাচ জেতানোর জন্য। যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন যেন তোমরা ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে পারো বা সেরা বলটি করতে পারো।”

অভিষেক আজও কোনও সমস্যায় পড়লে সবার আগে যুবরাজকেই ফোন করেন।

ট্রেভিস হেডের ব্যাটিং দর্শন

বর্তমানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে সতীর্থ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ট্রেভিস হেডকে পেয়ে অভিষেকের ব্যাটিংয়ের ধার আরও বেড়েছে। হেডের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ভক্ত অভিষেক তাঁর কাছ থেকে পেয়েছেন এক সহজ পরামর্শ:

  • হেডের টিপস: “বল দেখে খেলো। যদি মনে হয় বলটি মারার যোগ্য, তবে প্রথম বল হলেও দ্বিধা করো না।”
  • প্রয়োগ: এই ‘ফিয়ারলেস’ বা ভয়ডরহীন মানসিকতা নিয়েই এখন আইপিএলে ব্যাটিং করছেন অভিষেক। পছন্দের জায়গায় বল পেলেই তিনি পাল্টা আক্রমণে যাচ্ছেন, যা তাঁকে এবারের টুর্নামেন্টে অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় রান না পেলেও, হেড ও যুবরাজের দেওয়া এই টোটকাই আইপিএলের মঞ্চে অভিষেকের ব্যাটে রান ফিরিয়ে এনেছে। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফলের আবহে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই তরুণ তুর্কির ব্যাটিং তান্ডব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.