কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পরেও নিজেদের দাবি ও অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। একই সঙ্গে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা ও আইসিইউতে চিকিৎসা চলার মধ্যেই হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনকারী সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। সরকারের কাছে মূলত তিনটি প্রধান দাবি না মেটা পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে সিজেপির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই সোমবার এই সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় রাজধানী দিল্লিতে।
দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা ও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি
সোমবার অধিবেশন শুরু হওয়ার পটভূমিতে সিজেপির সংসদ অভিযান আটকাতে দিল্লি জুড়ে তীব্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে পুলিশ। জারি করা হয় ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা)। ব্যারিকেড, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠি নিয়ে পুলিশ প্রস্তুত থাকলেও প্রায় ২০ হাজার বিক্ষোভকারী (যাঁদের বড় অংশই ছাত্র ও যুবসমাজ) সমস্ত বাধা অতিক্রম করে জাতীয় পতাকা ও সংবিধান হাতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে পৌঁছান।
জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের সেল প্রয়োগ করে। এই সংঘর্ষে আন্দোলনকারীদের ছোঁড়া ইটে পুলিশের বাসে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা অন্তত ৭ জন আইপিএস আধিকারিকসহ ৫০ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
নড্ডার সঙ্গে বৈঠক ও সিজেপির ৩ প্রধান দাবি
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই কেন্দ্রের তরফ থেকে সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সরকারের কাছে সিজেপির পেশ করা প্রধান তিনটি দাবি হলো:
১. সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত হাসপাতাল থেকে মুক্তি দিতে হবে।
২. কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
৩. নিট (NEET) পরীক্ষার জেরে আত্মঘাতী পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
নড্ডা জানান, সরকার আন্দোলনকারীদের লিখিত আবেদন গ্রহণ করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অবস্থান তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
শাহ-ধর্মেন্দ্র বৈঠক ও যন্তর মন্তরে পুলিশি পদক্ষেপ
বিক্ষোভের মূল নিশানায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান থাকায়, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অন্যদিকে, নড্ডার সঙ্গে যখন বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই যন্তর মন্তরে সিজেপির অনশন ও অবস্থান মঞ্চটিকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করে ভেঙে দেয় দিল্লি পুলিশ। তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সহ অন্যান্য নেতৃত্ব জানিয়েছেন, যন্তর মন্তর থেকে হঠিয়ে দেওয়া হলে তাঁরা কেরালা হাউসের সামনে আন্দোলন ও অবস্থান চালিয়ে যাবেন।
অনশনে অনড় সোনম ওয়াংচুক ও হাই কোর্টে আইনি লড়াই
হাসপাতাল থেকে হাতে লেখা চিঠিতে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, ছাত্র-যুবদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদেই তিনি অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের সংসদে সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত এই অনশন চলবে।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুককে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা ও স্থানান্তরিত করার অভিযোগ তুলে দিল্লি হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়ের বেঞ্চ দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের থেকে ওয়াংচুকের সাম্প্রতিক মেডিকেল রিপোর্ট তলব করেছেন। তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা যাবে কিনা, সে বিষয়ে আদালত পরবর্তী নির্দেশ দেবে। এছাড়া যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের নজরদারির অভিযোগ সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায়, পুলিশ সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে চলছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট।

