ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের জন্য শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একই মামলায় এর আগে সোমবার ওই থানায় হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিট নাগাদ শেক্সপিয়র সরণি থানায় পৌঁছান ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁকে থানা থেকে বের হতে দেখা যায়। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে করা পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে তলব করা হয়েছিল। এ দিনের তলবটি মূলত কলকাতা পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি গত মাসে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের সামনে একটি বিতর্কিত বিলবোর্ড সরাতে গিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা। পুরসভার দাবি ছিল, তৃণমূলের নামাঙ্কিত ওই বিলবোর্ডটি অবৈধ এবং বিপজ্জনকভাবে ঝুলছিল। তা অপসারণ করতে গেলে পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুলিশের সহায়তায় পুর আধিকারিকেরা কার্যালয়ে প্রবেশের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশ ও পুরকর্মীদের মারধরের অভিযোগও আনা হয়।
মামলা ও আইনি পদক্ষেপ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি অভিযোগ করেছেন পুরসভার আধিকারিক এবং অন্যটি পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্ট। সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া, মারধর, এমনকি মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই সমস্ত এফআইআরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতো হেভিওয়েট নেতাদের নাম রয়েছে। এর পরই বাড়িতে নোটিস পাঠিয়ে তাঁদের তলব করে পুলিশ।

