কলকাতায় পুজো অনুদান বাতিলের হিড়িক, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া নামী ক্লাবগুলির

কলকাতায় পুজো অনুদান বাতিলের হিড়িক, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া নামী ক্লাবগুলির

কলকাতার দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান না নেওয়ার ঘোষণা করল শহরের একাধিক নামী ও প্রভাবশালী পুজো কমিটি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে সুরুচি সঙ্ঘ, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ এবং দেশপ্রিয় পার্কের মতো বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলি সরকারি অনুদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন ক্লাব সোশ্যাল মিডিয়ায় ও প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে।

সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আবেদন জানান, যে সমস্ত পুজো কমিটির বাজেট বেশি এবং যারা নিজ শক্তিতে পুজো পরিচালনা করতে সক্ষম, তারা যেন সরকারের কাছে এক লক্ষ টাকার অনুদান না নেয়। যাদের এই অর্থ না হলে পুজো করা সম্ভব নয়, শুধুমাত্র সেই ছোট ক্লাবগুলিই যেন এই অনুদান গ্রহণ করে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরদিনই শহরের প্রথম সারির পুজো উদ্যোক্তারা অনুদান না নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।

গড়িয়াহাটের সিংহি পার্ক সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি এবং নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে সরকারি অনুদান না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের সদস্য সন্দীপ দাশগুপ্ত জানান, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশপ্রিয় পার্ক পুজো কমিটির সম্পাদক অঞ্জন দাস জানান, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেই তাঁরা এই অনুদান নিচ্ছেন না।

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের কনক দেবনাথ এবং সুরুচি সঙ্ঘের সৌরভ শিকদার উভয়েই জানান, বড় ক্লাবগুলির পর্যাপ্ত বাজেট থাকায় তারা সরকারি অনুদান নেবে না, যাতে সেই অর্থ দিয়ে ছোট ক্লাবগুলি বেশি উপকৃত হতে পারে। একই পথে হেঁটেছে সন্তোষপুর লেকপল্লি, বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, গড়িয়াহাট হিন্দুস্থান ক্লাব, বেহালা ফ্রেন্ডস ও বাঘাযতীন সর্বজনীন। বাঘাযতীন সর্বজনীনের সুব্রত সাহা রায় মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন।

পাশাপাশি, পুজো কমিটিগুলির বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা এবং সিইএসসির সঙ্গে আলোচনার পর রাজ্যজুড়ে সমস্ত পুজো কমিটিকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের অর্থাৎ বিদ্যুতের বিলে শতভাগ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিদ্যুৎ ছাড়ের ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে পুজো কমিটিগুলি। তবে সব কমিটি অনুদান ত্যাগ না করলেও, যাদবপুরের পুজো উদ্যোক্তা উৎপল রায়চৌধুরীর মতো অনেকেই অর্থের অভাবে সংকটে থাকা ছোট পুজোগুলির জন্য এই অনুদান চালু রাখার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.