চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ়’ করার পুলিশি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এ বার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। পুলিশ ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ় করার পর তার বিরুদ্ধে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবির। তবে হাই কোর্ট থেকে কাঙ্ক্ষিত সুরাহা না মেলায় তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আইনি লড়াই ও আদালতের নির্দেশ কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের মূল বক্তব্য ছিল, সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত একটি এফআইআরের ভিত্তিতে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের ওই চারটি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে কোনো ধরনের বেআইনি লেনদেন হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। তাই ফ্রিজ় করা ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হোক। প্রয়োজনে এই কাজের জন্য একজন বিশেষ বা স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করার জন্যও কলকাতা হাই কোর্টে সওয়াল করেছিল তারা।
কিন্তু কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দেয়। হাই কোর্ট থেকে কোনো স্বস্তি না পেয়েই অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়েছে মমতা শিবির।
ইডির ফ্রিজ় করা অ্যাকাউন্ট এবং পূর্বের নজির প্রসঙ্গত, এর আগেও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ফ্রিজ় করেছিল। সেই সময় দৈনন্দিন দলীয় খরচ চালানোর জন্য ওই অ্যাকাউন্টগুলির টাকা ব্যবহারের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা।
তখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে সেই ‘ফ্রিজ়’ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির টাকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। সেই কাজের জন্য আদালত একজন স্পেশ্যাল অফিসারও নিয়োগ করে দিয়েছিল। আদালতের সেই অন্তর্বর্তী নির্দেশ মেনেই বর্তমানে স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনের খাতিরে ওই অ্যাকাউন্টগুলির টাকা তুলতে হচ্ছে কালীঘাট তৃণমূলকে। তবে পুলিশের ফ্রিজ় করা অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে হাই কোর্টে সুরাহা না মেলায় এখন সকলের নজর সুপ্রিম কোর্টের আগামী সপ্তাহের শুনানির দিকে।

