আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আলোকিত করার এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশুকল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দফতর। ‘আশীর্বাদ কা দিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ওই দিন ঠিক সন্ধ্যা ৭টায় রাজ্যের প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রদীপ বা মোমবাতি জ্বালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের ইন্টিগ্রেটেড চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেসের (ICDS) অধিকর্তা।
উপস্থিতি বাধ্যতামূলক এবং বিশেষ পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আলোকিত করতে হবে। শুধু প্রদীপ প্রজ্বলনই নয়, কর্মসূচি চলাকালীন সংশ্লিষ্ট অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা সহায়িকাকে অবশ্যই নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে।
তবে রাজ্যের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে একই সময়ে কর্মী ও সহায়িকা দু’জনেই উপস্থিত নাও থাকতে পারেন। এই বাস্তব পরিস্থিতি মাথায় রেখে জেলা প্রকল্প আধিকারিক এবং শিশু উন্নয়ন প্রকল্প আধিকারিকদের (CDPO) উপযুক্ত পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনও কেন্দ্রই সেই সময় কর্মীহীন না থাকে।
প্রশাসনের নজরদারি ও সমন্বয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা প্রকল্প আধিকারিক এবং শিশু উন্নয়ন প্রকল্প আধিকারিকদের আগাম যোগাযোগ, পারস্পরিক সমন্বয় এবং কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে গোটা কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। রাজ্যের কোনও একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রও যেন এই কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে দায়িত্ব বণ্টনের কথাও বলা হয়েছে। যদি কোনো কেন্দ্রে কর্মী বা সহায়িকার সংখ্যা কম থাকে, তবে পার্শ্ববর্তী কেন্দ্র বা উপস্থিত কর্মীদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা স্তর থেকে পুরো প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজরদারি রাখা হবে।
গ্রাম থেকে শহর— সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা এই নির্দেশিকার কপি সমস্ত জেলা প্রশাসন এবং কলকাতা পুরসভার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। এর ফলে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে কলকাতা শহর— প্রতিটি এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই একই সময়ে আলো জ্বালানোর ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের প্রাক্কালে কেন্দ্রের এই উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে আলোকিত করার পাশাপাশি কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন।

