মাঝগঙ্গায় নৌকায় বসে চিকেন বিরিয়ানি খেয়ে উচ্ছিষ্ট নদীতে ফেলার অভিযোগ, ইলাহাবাদ হাইকোর্টে জামিন ৫ অভিযুক্তের

মাঝগঙ্গায় নৌকায় বসে চিকেন বিরিয়ানি খেয়ে উচ্ছিষ্ট নদীতে ফেলার অভিযোগ, ইলাহাবাদ হাইকোর্টে জামিন ৫ অভিযুক্তের

“পবিত্র গঙ্গা নদীতে আমিষ খাবারের উচ্ছিষ্ট বা অবশিষ্টাংশ ফেলে দিলে তা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে।”— সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিয়ে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। তবে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া পাঁচ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। বিচারপতি জানান, অভিযুক্তেরা নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত এবং তাঁদের পরিবারও এই ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে।

আইনি খবর পরিবেশনকারী জাতীয় ওয়েবসাইট ‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীবলোচন শুক্লের একক বেঞ্চে এই মামলাটির শুনানি হয়। গত ১৫ মে মামলার পাঁচ অভিযুক্তের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করার সময়ই আদালত এই পর্যবেক্ষণটি তুলে ধরে।


ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে একদল যুবক মাঝগঙ্গায় একটি নৌকা ভাড়া করে সেখানে বসে চিকেন বিরিয়ানি খাচ্ছিলেন। খাওয়া শেষ হওয়ার পর তাঁরা সেই বিরিয়ানির উচ্ছিষ্ট অংশ ও হাড় গঙ্গা নদীতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই দৃশ্য দেখে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে, সনাতন ধর্মে পরম পবিত্র হিসেবে পূজিত গঙ্গা নদীতে এভাবে আমিষের উচ্ছিষ্ট ফেলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এর ফলে কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই স্থানীয় পুলিশ একটি এফআইআর (FIR) রুজু করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছিল।


জোর করে নৌকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে আদালতের সন্দেহ

গ্রেফতারির পর ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা আরও বাড়ে, যখন সংশ্লিষ্ট নৌকার মালিক তাঁদের বিরুদ্ধে একটি সম্পূরক অভিযোগ দায়ের করেন। নৌকার মালিকের দাবি ছিল, ওই যুবকেরা তাঁকে ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক নৌকাটি মাঝগঙ্গায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

তবে জামিন শুনানির সময় আদালত এই দ্বিতীয় অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করে। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, যদি অভিযুক্তেরা জোর করে ভয় দেখিয়ে নৌকা ছিনতাই করেই থাকবেন, তবে নৌকার মালিক কেন ঘটনার একদম প্রথম ভাগে পুলিশের কাছে এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ জানালেন না? কেন পরে এই ধারা যুক্ত করা হলো, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে আদালত।


জামিন মঞ্জুরের আইনি ভিত্তি

পাঁচ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করার সপক্ষে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীবলোচন শুক্ল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক উল্লেখ করেন:

  • শাস্তির মেয়াদ: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির যেসব ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে, তার কোনোটিতেই সর্বোচ্চ ৭ বছরের বেশি কারাবাসের বিধান নেই।
  • অনুতাপ প্রকাশ: ধৃত যুবকেরা নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতের সামনে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, গঙ্গার পবিত্রতা রক্ষা করা সকলের নৈতিক কর্তব্য এবং সেখানে আমিষ ফেলা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার শামিল হলেও, পুরো পরিস্থিতির আইনি পরিধি এবং অভিযুক্তদের অনুতপ্ত মনোভাবের কথা বিবেচনা করেই তাঁদের জামিন দেওয়া সমীচীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.