রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর খড়্গপুরে এক বিশাল এবং অভূতপূর্ব ‘অভিনন্দন যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হলো। শনিবার বিকেলে নবনির্বাচিত রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য তথা খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষের এই বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে সমগ্র শহরজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খড়্গপুরের ডিভিসি মোড় থেকে শুরু হয়ে তালবাগিচা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করে এই মিছিল। বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও উদ্দীপনা ছিল এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ।
ডিভিসি মোড়ে কর্মী-সমর্থকদের ঢল ও মিছিলের সূচনা
শনিবার দুপুর থেকেই খড়্গপুরের ডিভিসি মোড় এলাকায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা দলে দলে জড়ো হতে শুরু করেন। বিকেল গড়াতেই সভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে কর্মী-সমর্থকরা তাঁকে বিপুল করতালি ও পুষ্পস্তবকের মাধ্যমে স্বাগত জানান।
এরপর মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিক ‘অভিনন্দন যাত্রা’। গেরুয়া পতাকা, ফেস্টুন, গগনভেদী স্লোগান এবং সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ডিভিসি মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম রাস্তা পরিক্রমা করে। দীর্ঘ এই মিছিলে শুধু দলীয় কর্মী-সমর্থকরাই নন, রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে বহু সাধারণ মানুষকেও হাত নেড়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।
“খড়্গপুরের মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ চলবে” — কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মন্ত্রীর
দীর্ঘ দুই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে অভিনন্দন যাত্রাটি শেষ পর্যন্ত তালবাগিচায় এসে পৌঁছায়। সেখানে সমবেত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। খড়্গপুরবাসীর এই বিপুল ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন:
“খড়্গপুরের সাধারণ মানুষ ও কর্মীবৃন্দ সবসময় অতীতে আমার পাশে থেকেছেন এবং এই নতুন জমানাতেও আপনাদের আশীর্বাদ আমার পাথেয়। আমি খড়্গপুরবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আগামী দিনে এই এলাকার সার্বিক পরিকাঠামো ও উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত গতিতে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।”
একই সঙ্গে কাঠফাটা রোদ ও গরম উপেক্ষা করে এই দীর্ঘ মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য এবং দলকে সমর্থনের জন্য সমস্ত স্তরের কর্মী ও নেতৃত্বকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।
রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মেদিনীপুর জেলা তথা জঙ্গলমহল সংলগ্ন অঞ্চলে বিজেপির এটিই ছিল অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জমায়েত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শনিবারের এই সফল ‘অভিনন্দন যাত্রা’ কেবল খড়্গপুরেই নয়, বরং সমগ্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে শাসকদলের শক্তি ও সাংগঠনিক মজবুতির এক বড়সড় প্রদর্শন। এই কর্মসূচির পর স্বভাবতই খড়্গপুরের রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উৎসাহ ও নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

