৪০ বছর বয়সেও উইম্বলডনে ফেরার লক্ষ্য: জোকোভিচের ফিটনেসের নেপথ্যে যে বিশেষ ডায়েট চার্ট

৪০ বছর বয়সেও উইম্বলডনে ফেরার লক্ষ্য: জোকোভিচের ফিটনেসের নেপথ্যে যে বিশেষ ডায়েট চার্ট

উইম্বলডনের সেমিফাইনালে ইয়ানিক সিনারের কাছে সরাসরি সেটে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে টেনিস কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচকে। তবে এই হারে এখনই হাল ছাড়তে নারাজ তিনি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী দিনে ৪০ বছর বয়সে পৌঁছালেও তিনি আবারও উইম্বলডনের কোর্টে ফিরে আসতে চান। বর্তমান প্রজন্মের তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোর্টে সমানে সমানে টেক্কা দেওয়ার পেছনে রয়েছে জোকোভিচের অবিশ্বাস্য ফিটনেস। আর এই ঈর্ষণীয় ফিটনেসের মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তাঁর কঠোর ও বিশেষ খাদ্যতালিকায়।

ক্রোয়েশিয়ায় থাকাকালীন জোকোভিচের শরীরে ‘গ্লুটেন’ এবং ‘দুগ্ধজাত’ উপাদান সহ্য না হওয়ার (ইনটলারেন্স) বিষয়টি শনাক্ত হয়। তারপর থেকেই তিনি পাউরুটি, সাধারণ চিজ ও পাস্তা খাওয়া পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। এই গ্লুটেনমুক্ত খাবার খাওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই জোকোভিচ তাঁর শরীরে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। এতে তাঁর এনার্জি বৃদ্ধির পাশাপাশি হজমের সমস্যা দূর হয় এবং ঘুম ভালো হতে শুরু করে। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ চিনিমুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর তেলে রান্না করা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহনাশী খাবার খেয়ে থাকেন। তাঁর প্রোটিনের মূল উৎস উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হলেও খাদ্যতালিকায় মাছ ও হাঁস-মুরগির মাংসও থাকে।

জোকোভিচের সারাদিনের ডায়েট চার্ট:

সকাল: ঘুম থেকে ওঠার পরেই জোকোভিচের সকাল শুরু হয় এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে। যা তাঁর শরীর থেকে সমস্ত দূষিত পদার্থ (টক্সিন) বের করে দিতে সাহায্য করে।

প্রাতরাশ (ব্রেকফাস্ট): সকালের খাবারে তিনি পছন্দ করেন স্ট্রবেরি এবং কলা সহযোগে বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ মেশানো ইয়োগার্ট। এর পাশাপাশি একটি বিশেষ প্রদাহনাশী সবুজ পানীয় পান করেন তিনি। সেলেরি, মটরশুঁটি, আপেলের রস, পুদিনাপাতা এবং পালংশাক দিয়ে তৈরি করা হয় এই বিশেষ জুস।

দুপুর (লাঞ্চ): মধ্যাহ্নভোজে জোকোভিচ মূলত গ্লুটেনমুক্ত ঢেমশি বীজের আটা দিয়ে তৈরি জাপানি ‘সোবা নুড্লস’ এবং স্যালাড খান। বিকল্প হিসেবে অনেক সময় তিনি ভিগান চিজ দিয়ে তৈরি গ্লুটেনমুক্ত পাস্তাও গ্রহণ করেন।

রাত (ডিনার): নৈশভোজে জোকোভিচের পাতে দুটি মূল পদের যেকোনো একটি থাকে:

  • প্রথম পদ: লেবুর রস দিয়ে রোস্ট করা মুরগির মাংস, সাধারণ স্যালাড এবং আদা ও গাজরের স্যুপ।
  • দ্বিতীয় পদ: কেল সিজার স্যালাড (যার ড্রেসিংয়ে থাকে অ্যাঙ্কোভি বা সার্ডিন মাছ), মিনেস্ট্রোন স্যুপ এবং ম্যারিনেট ও রোস্ট করা টম্যাটো-সহ চামড়াযুক্ত স্যামন মাছের ফিলে।

খাদ্যতালিকায় কড়া নজর: যে সমস্ত খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয়, সেগুলি নোভাক জোকোভিচ তাঁর খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন। সবজি, বিন, বীজ, বাদাম, কাবলিছোলা ও ডালের মতো সহজপাচ্য খাবারই তাঁর দীর্ঘ টেনিস ক্যারিয়ারের অন্যতম চালিকাশক্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.