গোন্ডায় পৌঁছেও ব্রাত্য বিনেশ: শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ডোপ বিধির জাঁতাকলে এশিয়ান গেমসের স্বপ্নপূরণ নিয়ে সংশয়

গোন্ডায় পৌঁছেও ব্রাত্য বিনেশ: শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ডোপ বিধির জাঁতাকলে এশিয়ান গেমসের স্বপ্নপূরণ নিয়ে সংশয়

উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় আয়োজিত ন্যাশনাল ওপেন র‌্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়েও বড়সড় বাধার মুখে পড়লেন অলিম্পিয়ান কুস্তিগির বিনেশ ফোগাট। শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ডোপ পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগে ভারতীয় কুস্তি সংস্থা (WFI) তাঁকে এই প্রতিযোগিতায় নামতে অনুমতি দেয়নি। ফলে এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জনের শেষ সুযোগটি বিনেশের হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে।


বিতর্কের মূলে ডোপ বিধি ও ‘শো-কজ’

ভারতীয় কুস্তি সংস্থার দাবি, ডোপ পরীক্ষা না দেওয়ায় বিনেশকে আগেই কারণ দর্শানোর নোটিস (Show-cause) দেওয়া হয়েছিল। বিনেশ সেই নোটিসের জবাব দিলেও ফেডারেশন তাতে সন্তুষ্ট নয়। ডোপ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও কুস্তিগির অবসর ভেঙে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ফিরতে চাইলে তাঁকে অন্তত ছয় মাসের ‘নোটিস পিরিয়ড’ কাটাতে হয়। সেই হিসেব অনুযায়ী, আগামী ২৬ জুনের আগে বিনেশের ম্যাটে নামার আইনি অধিকার নেই।

ফেডারেশনের এক আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন:

“বিনেশ কেবল তাঁর প্রত্যাবর্তনের নিয়মের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মূল অভিযোগ— শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ডোপ পরীক্ষা না দেওয়ার বিষয়ে কোনও সদুত্তর দেননি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কোনও প্রতিযোগিতায় নামতে দেওয়া সম্ভব নয়।”


বিনেশের পাল্টাদাবি

কুস্তি থেকে ১৮ মাসের দীর্ঘ বিরতির পর ফের কামব্যাক করতে মরিয়া বিনেশ অবশ্য ফেডারেশনের এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁর দাবি:

  • তিনি গত বছর জুন মাসেই বিশ্ব কুস্তি নিয়ামক সংস্থা ‘ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড রেসলিং’ (UWW)-কে তাঁর ফেরার কথা জানিয়েছিলেন।
  • ফলে অবসর ভেঙে ফেরার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া তিনি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন।
  • তাঁর অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে তাঁকে এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।

অলিম্পিক বিপর্যয় থেকে গোন্ডা যাত্রা

২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক্সের ৫০ কেজি বিভাগের ফাইনালে উঠেও মাত্র ১০০ গ্রাম অতিরিক্ত ওজনের কারণে ডিসকোয়ালিফাইড হয়েছিলেন বিনেশ। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর তিনি কুস্তি থেকে অবসরের ঘোষণা করেন। বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত বদলে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ফেরার লক্ষ্য নিয়েছিলেন তিনি।

তবে কুস্তি সংস্থার অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের দাবি, বিনেশ কেবল নিয়মই ভাঙেননি, বরং এশিয়ান গেমসের যোগ্যতা অর্জনের প্রক্রিয়া নিয়ে জনমানসে অসত্য তথ্য পরিবেশন করেছেন। একদিকে ফেডারেশনের কঠোর অবস্থান এবং অন্যদিকে বিনেশের আইনি লড়াই— এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে গোন্ডায় পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ম্যাটের বাইরেই থাকতে হলো এশিয়ান ও কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী এই কুস্তিগিরকে।

এখন দেখার, এই অচলাবস্থা কাটাতে বিনেশ উচ্চতর কোনও আইনি পদক্ষেপ করেন কি না। তবে আপাতত এশিয়ান গেমসের টিকিট পাওয়া তাঁর জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.