কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত ২৬তম সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও এক বার কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দর্শকাসনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ সহ অন্যান্য রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে মোদী সাফ জানিয়ে দেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রশ্নে কোনো রকম দ্বিচারিতার স্থান নেই এবং সন্ত্রাস কখনোই কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।
সীমান্তপারের সন্ত্রাস এবং জঙ্গিগোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ দিন প্রধানমন্ত্রী নাম না করে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেন। উল্লেখ্য, অতীতে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সময় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় সেনা। এ দিনের সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, “যে সমস্ত দেশ সন্ত্রাসবাদকে নিজেদের নীতির অঙ্গ করে ফেলেছে এবং সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করছে, তাদের একটিই বার্তা দেওয়া উচিত। তা হল, সন্ত্রাসবাদ কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামো বা কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলার আহ্বান জানান।
শান্তি ও কূটনীতির পক্ষে সওয়াল ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের আবহে বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, সংঘাত বা যুদ্ধের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয় না; সমস্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে হবে পারস্পরিক কথোপকথন এবং কূটনীতির মাধ্যমেই। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের আন্তর্জাতিক প্রভাব তুলে ধরে মোদী জানান, এই সংকট কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে (সাপ্লাই চেন) গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে। ভারতের মতো ‘গ্লোবাল সাউথ’ বা দক্ষিণাংশের দেশগুলিকেই এই সংকটের সবচেয়ে বেশি মূল্য চোকাতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে হুংকার সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক সুরক্ষার স্বার্থে মাদক চোরাচালান দমনেও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, মাদক পাচার কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, এটি নতুন প্রজন্মের কাছে এক মারাত্মক বিপদ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পথে বড় বাধা।
উল্লেখ্য, ২৬তম এসসিও-র এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজ়ান্ডার লুকাশেঙ্কো, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাশিম জমার্ট তোকায়েভ, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকত মিরজ়িয়োয়েভ এবং তাজিকস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমোন।

