লোকসভার আসন বেড়ে হতে পারে ৮৫০: ২০২৯ থেকেই মহিলা সংরক্ষণে মরিয়া মোদী সরকার

লোকসভার আসন বেড়ে হতে পারে ৮৫০: ২০২৯ থেকেই মহিলা সংরক্ষণে মরিয়া মোদী সরকার

দেশের সংসদীয় কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করতে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর সংশোধনী ও ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল চলতি সপ্তাহেই সংসদে পেশ হতে চলেছে। মঙ্গলবার এই বিলের খসড়া সাংসদদের হাতে পৌঁছেছে।

৮৫০ আসনে পৌঁছাতে পারে লোকসভা

বিলের খসড়া অনুযায়ী, সংসদের দুই কক্ষে বিলটি পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হতে পারে। কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার উদ্দেশ্যে প্রতিটি রাজ্যের লোকসভা আসন ন্যূনতম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রয়েছে।

  • বাংলার প্রেক্ষাপট: এই প্রস্তাব কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা আসন সংখ্যা বর্তমানের ৪২টি থেকে বেড়ে অন্তত ৬৩টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ অধিবেশন ও অনুচ্ছেদ সংশোধন

মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংসদের বাজেট অধিবেশনের মেয়াদ বাড়িয়ে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। বিলের খসড়ায় সংবিধানের ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনগণনা শেষ হওয়ার পরই নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) শুরু করা যায়। তবে মোদী সরকার আগামী লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণনার রিপোর্ট প্রকাশের আগেই আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ চালু করতে আগ্রহী।

বিরোধীদের আপত্তি ও রাজনৈতিক সমীকরণ

২০২৩ সালে যখন ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ হয়েছিল, তখন শর্ত ছিল যে নতুন জনগণনার পরই আসন সংরক্ষিত হবে। সেই হিসেবে ২০৩৪ সালের আগে এটি কার্যকর হওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু বর্তমানের এই ত্বরান্বিত পদক্ষেপে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস ও তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ:

  • ২০২৭-এর জনগণনার অপেক্ষা না করে তড়িঘড়ি আসন বাড়ানো হচ্ছে কেবল ২০২৯-এর নির্বাচনে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে।
  • জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের মতো দুটি ভিন্ন বিষয়কে ইচ্ছাকৃতভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার চ্যালেঞ্জ

সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা বর্তমানে মোদী সরকারের হাতে নেই। এই পরিস্থিতিতে বিলটি আটকাতে রণকৌশল সাজাতে আগামী ১৫ এপ্রিল দিল্লিতে বৈঠকে বসছে বিরোধী দলগুলি।

সরকার ও বিরোধীদের এই সংঘাতের আবহে ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা বিশেষ অধিবেশন ভারতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.