‘বিগ বসে গ্রেগ চ্যাপেল এলেও ঠিক সামলে নিতাম’! টেলিভিশনে নয়া অবতারে নতুন ইনিংস শুরু করলেন সৌরভ, দিলেন একান্ত সাক্ষাৎকার

‘বিগ বসে গ্রেগ চ্যাপেল এলেও ঠিক সামলে নিতাম’! টেলিভিশনে নয়া অবতারে নতুন ইনিংস শুরু করলেন সৌরভ, দিলেন একান্ত সাক্ষাৎকার

নবরূপে টেলিভিশনের পর্দায় ফিরলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা সফল সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় সম্প্রচারিত হয়েছে ‘বিগ বস্‌ বাংলা’র প্রথম পর্ব। এর আগে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দাদাগিরি’-র সফল সঞ্চালনা করলেও, এই নতুন অনুষ্ঠানটি তাঁর কাছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা। প্রথম পর্বের সফল সম্প্রচারের পরে ‘আনন্দবাজার ডট কম’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে শো-এর অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত জীবন ও নানা অজানা প্রসঙ্গ খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন তিনি।

‘বিগ বস্‌’-এর রাজকীয় ঘরটি নিজের কেমন লেগেছে এবং সেখানে তিন মাস থাকা সম্ভব কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে সৌরভ জানান যে ঘরটি অত্যন্ত সুন্দর হলেও একটানা তিন মাস সেখানে থাকা তাঁর পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। তবে টানা তিন দিনও বাড়িতে না থাকার অভ্যাস সংক্রান্ত কৌতূহলপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে তিনি হেসে তা উড়িয়ে দেন। প্রথম পর্ব দেখার পর মেয়ে সানা বা পরিবারের অন্য কেউ কোনও বিশেষ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কি না, সে প্রসঙ্গে তিনি জানান যে সানা তাঁর সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানটি দেখলেও বিশেষ কিছু বলেননি। তবে শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে মেকআপ এবং সামগ্রিক লুক নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান তিনি। যদিও তাঁর মতে, শো-এর আসল খেলা এখনও শুরুই হয়নি।

হিন্দি ‘বিগ বস্‌’-এর সঞ্চালক সলমন খানের কাজ প্রশংসনীয় বলে মনে করলেও এই শো শুরু করার আগে তিনি কারও সঙ্গে আলাদা করে কোনও আলোচনা করেননি। ‘দাদাগিরি’ ও ‘বিগ বস্‌’-এর মধ্যে তুলনার প্রসঙ্গে সৌরভ জানান যে দু’টি অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ আলাদা মেজাজের হওয়ায় তাদের তুলনা করা ঠিক নয়। পোশাক ও সাজপোশাকের ক্ষেত্রেও শো-এর জমকালো মেজাজের সঙ্গে মানানসই লুক রাখা হয়েছে, যা তিনি নিজের পছন্দমতোই বেছে নিয়েছেন; চ্যানেল বা অন্য কেউ তাঁর ওপর কিছু চাপিয়ে দেননি।

অনুষ্ঠানের ফরম্যাট অনুযায়ী তাঁর নিজের জীবনের ‘বিগ বস্‌’ কে, জানতে চাওয়া হলে সৌরভ জানান যে তাঁর পরিবার—মা-বাবা, স্ত্রী ডোনা ও কন্যা সানা—সকলেই তাঁর জীবনের চালিকাশক্তি। তবে পরিবারে সবচেয়ে বড় হিসেবে তিনি তাঁর বাবাকেই ‘বিগ বস্‌’ বলে মনে করেন। এর আগে বাংলায় মিঠুন চক্রবর্তী ও জিতের সঞ্চালনায় ‘বিগ বস্‌’ অনুষ্ঠিত হলেও, তিনি নিজের সহজাত ও স্বতন্ত্র শৈলীকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন, ঠিক যেভাবে তিনি ‘দাদাগিরি’ পরিচালনা করেছিলেন।

শো-এর প্রতিযোগীদের প্রসঙ্গে সৌরভ স্পষ্ট জানান যে সেটে আসার পরেই তাঁদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, যদিও অংশগ্রহণকারীদের অনেকের সঙ্গেই তাঁর আগে থেকে পরিচিতি ছিল। তবে কে বা কারা প্রতিযোগী হিসেবে আসছেন, তা তাঁর আগে জানা ছিল না। খেলা সবেমাত্র শুরু হওয়ায় এবং প্রতিযোগী সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় না আসায় এখনই বিজয়ী নিয়ে কোনও পূর্বাভাস দিতে নারাজ তিনি। এ ছাড়া প্রতিযোগী হিসেবে কোনও রাজনীতিবিদের অনুপস্থিতি সম্পূর্ণভাবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে কৌতূহলবশত প্রশ্ন ওঠে, গ্রেগ চ্যাপেল ‘বিগ বস্‌’-এর ঘরে থাকলে পরিস্থিতি কেমন হতো এবং গ্রেগ এলে তিনি সঞ্চালক হতেন নাকি প্রতিযোগী? হাসিমুখে সৌরভ জানান যে গ্রেগ চ্যাপেল অস্ট্রেলিয়া থেকে আসতেনই না, তাই তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। তবে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস অতীতে অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘বিগ বস্‌’-এ অংশ নিলেও সাইমন্ডস এবং গ্রেগ চ্যাপেল যে এক নন, তা স্পষ্ট করে দেন মহারাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.