প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ মন্তব্যের অভিযোগ: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে নির্বাচন কমিশনের নোটিস

প্রধানমন্ত্রীকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ মন্তব্যের অভিযোগ: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে নির্বাচন কমিশনের নোটিস

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে নোটিস পাঠাল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই মন্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল অভিযোগ জানানোর পরই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত: মঙ্গলবার তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠকে মল্লিকার্জুন খড়্গে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ‘সন্ত্রাসবাদী’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এডিএমকে (AIADMK) এবং বিজেপির জোট নিয়ে সমালোচনা করার সময় তিনি বলেছিলেন, “উনি (প্রধানমন্ত্রী) তো সন্ত্রাসবাদী। ওঁর দল সাম্য এবং ন্যায়বিচারে বিশ্বাস করে না।” এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

খড়্গের সাফাই: ঘটনার জল গড়ালে কংগ্রেস সভাপতি নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলেননি। খড়্গের দাবি, “আমি বলতে চেয়েছি, প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে আতঙ্কিত করছেন। আমি ‘শুল্ক সন্ত্রাসবাদ’ বা কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর (ইডি, আয়কর, সিবিআই) অভিযানের মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শনের কথা বলেছি। আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।”

বিজেপির প্রতিক্রিয়া: খড়্গের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির কংগ্রেসকে ‘শহুরে নকশালদের দল’ বলে কটাক্ষ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, রাহুল গান্ধীর সংস্পর্শে আসার কারণেই খড়্গের ভাষাশৈলী ও মানসিকতার অবনতি হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, কিরেন রিজিজু এবং অর্জুন রাম মেঘওয়ালের নেতৃত্বাধীন বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়ে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানান।

নির্বাচন কমিশন এখন খড়্গেকে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কংগ্রেস সভাপতির ব্যাখ্যার পর কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নির্বাচনের মরসুমে এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.