মরসুমের প্রথম তাপপ্রবাহে নাকাল দক্ষিণবঙ্গ। মঙ্গলবার আসানসোলে তাপমাত্রা ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেও, রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পানাগড়ে (৪৩.৮ ডিগ্রি)। বাঁকুড়াতেও তাপমাত্রা ৪৩.২ ডিগ্রির গণ্ডি ছাড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিন এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
ভোটের দিন চরম ভোগান্তির আশঙ্কা
রাজ্যের ১৬টি জেলায় বৃহস্পতিবার প্রথম দফার নির্বাচন। এই জেলাগুলির মধ্যে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানে ভোটের দিন গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ (Yellow Alert) জারি করা হয়েছে। ফলে ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটারদের তীব্র গরমে বেগ পেতে হতে পারে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও প্রার্থীরা ভোটারদের সকাল সকাল ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস: দক্ষিণবঙ্গ
- আগামী সাত দিন: রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকতে পারে। উপকূলীয় ও পূর্বের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ডিগ্রি বেশি এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০-৯৫ শতাংশ থাকায় ভ্যাপসা গরম বজায় থাকবে।
- বুধবার ও বৃহস্পতিবার: পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে তাপপ্রবাহের সতর্কতা রয়েছে। এছাড়া বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূমে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
- বৃষ্টির পূর্বাভাস: শুক্রবার থেকে কিছু জেলায় কালবৈশাখী ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও, তাতে তীব্র গরমের অস্বস্তি থেকে বড়সড় মুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
প্রথম দফায় ভোট রয়েছে উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলায়। সেখানে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। রবিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রশাসনিক সতর্কতা
প্রবল গরমে ভোটপর্ব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনগুলিকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলিতে পানীয় জল ও ছায়ার পর্যাপ্ত বন্দোবস্ত রাখার দিকেও নজর দিচ্ছে কমিশন। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বঙ্গবাসীকে ভোগাবে।

