মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর মঙ্গলবারই প্রথম জঙ্গলমহল সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে আয়োজিত ‘হুল দিবস’-এর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জঙ্গলমহলের সামগ্রিক বিকাশে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করে জঙ্গলমহলের প্রতি বঞ্চনা ও অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল জমানার অত্যাচার ব্রিটিশ আমলকেও হার মানায়: মুখ্যমন্ত্রী
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। তিনি অভিযোগ করেন, “তৃণমূল জমানায় আদিবাসীদের ওপর যা অত্যাচার হয়েছে, তা ব্রিটিশ আমলের থেকেও বেশি।” এর বিপরীতে তাঁর বর্তমান সরকার কীভাবে আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে পাশে দাঁড়িয়েছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আমরা চাই আদিবাসীরা নিচে নয়, সবার সাথে একই আসনে বসুক। আদিবাসীদের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা মন্ত্রিসভায় একাধিক আদিবাসী জনপ্রতিনিধিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছি।”
ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র ও পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ নিয়ে সরব শুভেন্দু
বিগত সরকারের আমলে হাজার হাজার ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা সরকারে এসে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি। জালিয়াতি প্রমাণিত হলে যিনি ভুয়ো শংসাপত্র পেয়েছেন এবং যিনি সেটি দিয়েছেন— দু’জনকেই জেলে যেতে হবে।”
পাশাপাশি তিনি জানান যে, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের জন্য গত তিন বছর কোনো টাকা বরাদ্দ করেনি পূর্বতন তৃণমূল সরকার। তবে বর্তমান বিজেপি সরকার এই দপ্তরের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই বিপুল অর্থে জঙ্গলমহলের ৭২টি ব্লকে ঢালাও উন্নয়নের কাজ হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। সেই সাথে জামশেদপুর এবং দুর্গাপুর— এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলকে সড়কপথে যুক্ত করার বড়সড় পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
জঙ্গলমহলের জন্য একগুচ্ছ সরকারি প্রতিশ্রুতি
আদিবাসী সমাজকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাচীন আদিবাসীদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। কৃষি, সেচ, হিমঘর এবং উদ্যান পালনের (হর্টিকালচার) উন্নতির জন্য সরকার বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে।
এছাড়া আদিবাসীদের বিশেষ ভাতা প্রদান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আরও বেশি বাড়ি তৈরি এবং প্রতিটি ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ করছে। চলতি রাজ্য বাজেটেও আদিবাসী এলাকার বিশেষ উন্নয়নের জন্য ৩০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিধু-কানুর মূর্তির উন্মোচন ও গুণীজন সংবর্ধনা
মঙ্গলবার মুকুটমণিপুরে পৌঁছে হুল দিবস উপলক্ষ্যে সিধু ও কানুর নবনির্মিত মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর মূল সভামঞ্চ থেকে আদিবাসী সমাজের কৃতী পড়ুয়াদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন তিনি। একই সাথে আদিবাসী সমাজের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট গুণীজনদেরও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানিত করেন মুখ্যমন্ত্রী।

