রাজ্যে দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন সবার নজর ৪ মে-র ফলাফল ঘোষণার দিকে। তবে ভোট গণনার আগে ইভিএম-এর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় জনতা পার্টি। স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চলমান চাপানউতরের আবহে, রবিবার সকাল থেকে রাজ্যের প্রতিটি স্ট্রংরুমের বাইরে অবস্থানে বসছেন বিজেপির মহিলা কর্মীরা।
বিজেপির পাল্টা কৌশল
দ্বিতীয় দফার ভোট মেটার পর থেকেই স্ট্রংরুমের ‘সন্দেহজনক গতিবিধি’ নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার তারই পাল্টায় মাঠে নামছে বিজেপি। দলের তরফে জানানো হয়েছে:
- মহিলাদের দায়িত্ব: গণনা শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত ইভিএম-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রন্টলাইনে থাকবেন দলের মহিলা কর্মীরা।
- নিচ্ছিদ্র নজরদারি: রবিবার সকাল থেকে শুরু করে সোমবার সকালে গণনাকেন্দ্রে দলের এজেন্ট ও প্রার্থীরা পৌঁছানো না পর্যন্ত স্ট্রংরুমের বাইরে অতন্দ্র পাহারায় থাকবেন তাঁরা।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু: ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ও সাখাওয়াত মেমোরিয়াল
স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় কলকাতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রকে ঘিরে। ১. ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র: এখানে সিসিটিভি ও সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার থেকে গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন তৃণমূলের শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ। ২. সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল: ভবানীপুর কেন্দ্রের এই স্ট্রংরুমে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে গিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা বসে থাকেন। পাল্টা সেখানে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট সূর্যনীল দাসও।
বারাসতকাণ্ডে চড়ল পারদ
শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতেও স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, সিসিটিভির ডিসপ্লে মনিটর কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যদিও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সিসি ক্যামেরা সচল ছিল; কেবল যান্ত্রিক কারণে মনিটরটি বন্ধ হয়েছিল। এই ঘটনাটি বিজেপির আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলস্বরূপ রাজ্যজুড়ে এই সম্মিলিত ‘পাহারা’র সিদ্ধান্ত।
রবিবারের সূচি: পুজো ও প্রার্থনা
গণনার আগের দিন অর্থাৎ রবিবারকে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আবহে কাটাতে চাইছেন বিজেপি প্রার্থীরা।
- বিজেপির সমস্ত বিধানসভা প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় মন্দিরে পুজো দেবেন।
- দলের সাংসদরাও নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় মন্দিরে গিয়ে জয়ের প্রার্থনায় শামিল হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে স্ট্রংরুম পাহারা দিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা রাখা, অন্যদিকে মন্দিরে পুজো দিয়ে জনমানসে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া— ৪ মে-র আগে উভয় কৌশলই সুনিপুণভাবে সাজিয়েছে বিজেপি। এখন দেখার, এই হাই-ভোল্টেজ ‘ইভিএম পাহারা’র রাজনীতি শেষ পর্যন্ত গণনার দিনে কী প্রভাব ফেলে।

