ইডি-র নজিরবিহীন সক্রিয়তা: গত অর্থবর্ষে বাজেয়াপ্ত ৮১ হাজার কোটি টাকা, তবে কমেছে গ্রেফতারি

ইডি-র নজিরবিহীন সক্রিয়তা: গত অর্থবর্ষে বাজেয়াপ্ত ৮১ হাজার কোটি টাকা, তবে কমেছে গ্রেফতারি

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যানে অর্থ তছরুপের মামলায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থাটি সারা দেশে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করলেও, পূর্ববর্তী বছরগুলির তুলনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের হার লক্ষ্যণীয়ভাবে কমেছে।


রেকর্ড পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে ইডি মোট ৮১,৪২২ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি ও অর্থ বাজেয়াপ্ত করেছে। এটি কেন্দ্রীয় এই সংস্থার ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ বাজেয়াপ্ত করার নজির।

  • বৃদ্ধির হার: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বাজেয়াপ্ত করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৩০,০৩৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে বাজেয়াপ্ত করার হার বেড়েছে প্রায় ১৭১ শতাংশ।
  • তদন্তের পদ্ধতি: গত এক বছরে ইডি সারা দেশে মোট ২,৮৯২টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে, যা আগের বছরের (১,৪৯১টি) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

গ্রেফতারি কমলেও বেড়েছে চার্জশিট

আশ্চর্যের বিষয় হলো, তল্লাশি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার হার বাড়লেও গ্রেফতারির সংখ্যা কমেছে ২৭ শতাংশ।

  • গ্রেফতারির পরিসংখ্যান: ২০২৩-২৪ সালে ২৭২ জন এবং ২০২৪-২৫ সালে ২১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গ্রেফতার করা হয়েছে মাত্র ১৫৬ জনকে।
  • ইডির যুক্তি: তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তারা এখন ‘লক্ষ্য মেনে প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত’ (Targeted and Evidence-based Investigation) কৌশলে হাঁটছে। তাই গণ-গ্রেফতারির চেয়ে অকাট্য প্রমাণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, গত বছর তারা ৮১২টি চার্জশিট জমা দিয়েছে, যা আগের বছরের (৪৫৭টি) তুলনায় অনেক বেশি।

প্রতারিতদের অর্থ ফেরত

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, গত অর্থবর্ষে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইডি। চিটফান্ড বা পঞ্জি স্কিমের মতো প্রতারণা মামলায় বাজেয়াপ্ত করা অর্থ থেকে প্রায় ৩২,০০০ কোটি টাকা প্রতারিত ব্যক্তিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেবল পঞ্জি মামলাতেই ১৫,৫৮২ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

দ্রুত হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়া

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, ইডি-র মামলাগুলির নিষ্পত্তির সময়সীমা আগের চেয়ে অনেক কমেছে। আগে যেখানে একটি মামলা শেষ হতে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগত, এখন তা গড়ে ১ থেকে দেড় বছরের মধ্যে সম্পন্ন হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১,০৮০টি নতুন ইসিআইআর (ECIR) বা মামলা রুজু করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

টাকা তছরুপের তদন্তে বিদেশের সাহায্য চাইতেও পিছিয়ে নেই ইডি। ‘মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিসট্যান্স ট্রিটি’ (MLAT)-এর অধীনে ৩৫৩টি অনুরোধ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • তালিকায় শীর্ষে: আরব আমিরশাহি (৬৯টি অনুরোধ)।
  • বিদেশ থেকে অনুরোধ: ভারত থেকেও অন্য দেশগুলি তথ্য চাইছে। এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি অনুরোধ পাঠিয়েছে ব্রিটেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএমএলএ (PMLA) আইনের কড়াকড়ির কারণে এই ধরনের মামলায় জামিন পাওয়া বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থান আর্থিক অপরাধ দমনে কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফলের প্রাক্কালে ইডি-র এই বার্ষিক রিপোর্ট রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.