সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার পর থেকেই খুশির হাওয়া ভারতের বাণিজ্যিক মহলে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, এই চুক্তির ফলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্য রপ্তানির পরিমাণ এক লাফে অনেকটা বৃদ্ধি পাবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানিকারক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে। অর্থমন্ত্রীর মতে, এর ফলে ভারতের সাধারণ মানুষের সামনে এক বিশাল নতুন বাজার উন্মোচিত হলো, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক
চুক্তি অনুসারে, ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত আপেল, ব্লুবেরি, ব্ল্যাকবেরি এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স দাবি করেছে, ভারত সরকার তার কৃষি ক্ষেত্রের দরজা আংশিকভাবে আমেরিকার জন্য খুলে দিচ্ছে।
এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিরোধীরা সরব হলেও কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্ট জানিয়েছেন:
- স্বার্থ রক্ষা: দেশের কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের স্বার্থের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা হয়নি।
- বিরোধীদের নিশানা: বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, কংগ্রেস দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করছে এবং অগ্রগতির বিরোধিতা করছে।
বিশেষজ্ঞ ও সরকারি ভাষ্য
দেশের প্রাক্তন বিদেশ সচিব তথা রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রীংলা এই চুক্তিতে কোনো স্ববিরোধিতা দেখছেন না। তাঁর মতে, আমেরিকা থেকে কিছু পণ্য এলেও তা দেশীয় কৃষকদের কোনো ক্ষতি করবে না।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে এই চুক্তির ফলে ভারত আগামী দিনে প্রায় ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার জ্বালানি প্রযুক্তি, কৃষি পণ্য, কয়লা এবং অন্যান্য সামগ্রী আমেরিকার কাছ থেকে কিনবে। অর্থমন্ত্রী যদিও জানিয়েছেন যে চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা এখনও তৈরি হচ্ছে, তবে ১৮ শতাংশ শুল্কের সুবিধা ভারতীয় শিল্পমহলকে বড়সড় অক্সিজেন দেবে।
এক নজরে চুক্তির মূল দিকগুলো:
- শুল্ক হ্রাস: ২৫% থেকে কমে ১৮% হচ্ছে ভারতীয় পণ্যে।
- আমদানি: মার্কিন আপেল, ব্লুবেরি ও ড্রাই ফ্রুটসের ওপর শুল্ক কমাবে ভারত।
- রপ্তানি লক্ষ্য: জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কৃষি ক্ষেত্রে ৪৫ লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা।
- সুরক্ষা কবচ: দুগ্ধজাত ও প্রধান কৃষিপণ্যের বাজার সুরক্ষিত রাখার দাবি সরকারের।

