চণ্ডাল কথা

কথায় কথায় বলা হয়, চণ্ডালের রাগ বা রেগে গেলে চণ্ডাল! অপভ্রংশে “চাঁড়াল।” ঋষি বিশ্বামিত্রের কারণে রাজা হরিশ্চন্দ্র পর্যন্ত রাজ‍্যপাট হারিয়ে চণ্ডাল হয়ে শ্মশানে মড়া পোড়াতেন। তবে চণ্ডালদের রাগ যদি বেশি, তবে তাঁরাও রাগ ছেড়ে বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন। কিন্তু অহিংসার ধর্মে আশ্রয় নিলেও রাগ নিয়ে তাঁদের সম্পর্কে প্রবাদ তৈরি হয়েছে।Read More →

অখন্ড ভারতের বৈরাগ্যপথ, এক মহাজীবনের পায়ের ধুলোয় আঁকা একতা

কথিত আছে প্রাচীন ভারতে গুরুগৃহে শিক্ষালাভের পর স্নাতক হলে দেশভ্রমণ না করলে শিক্ষার পাঠ সম্পূর্ণ হতো না কারো। এ বিষয়ে পুরাণ ইতিহাস ও চারণ কবি রচিত বিভিন্ন গান দোঁহা ইত্যাদিতে রয়েছে অসংখ্য প্রমাণ। মহিলা শিক্ষার্থীরাও এ প্রথা পালনে ব্যতিক্রম ছিলেন না। উদাহরণ দিতে বসলে সেটা নিয়ে আস্ত একটা বই হয়েRead More →

প্রাচীন ভারতে হাতির ভূমিকা

প্রাচীন ভারতে যুদ্ধের এক অপরিহার্য অঙ্গ ছিল হস্তিবল অর্থাৎ হাতীর শক্তি। প্রাচীন ভারতে হিন্দু সেনাবাহিনীতে চতুরঙ্গ সেনাদল ছিল, যার অন‍্যতম ছিল হস্তিবাহিনী। সেজন্য মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের আমলে উৎকৃষ্ট হাতি জন্মানোর জন‍্য বিশেষ চেষ্টা করা হয়েছিল। কেউ হাতি হত‍্যা করলে তার প্রাণদণ্ড পর্যন্ত হতো। হাতিদের জন্য ছিল হস্তিবন। আর সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণেরRead More →

সাহেবদের হারিয়ে এক বাঙালি প্রত্নতাত্ত্বিকের কপিলাবস্তু আবিষ্কার

বিদেশি প্রত্নতাত্ত্বিকরা ডাহা ফেল্। শেষে কিনা কপিলাবস্তু আবিষ্কার করে ফেললেন এক ভেতো বাঙালি প্রত্নতাত্ত্বিক। নাম তাঁর—পূর্ণচন্দ্র মুখার্জি। সে কথায় আসার আসে বলি কপিলাবস্তু খুঁজতে গিয়ে সাহেবদের দৌড়-ঝাঁপের কথা। গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান কপিলাবস্তু। ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। আর এই কপিলাবস্তু খুঁজতে বিভ্রান্ত হয়েছেন অনেকেই। প্রথমে তো গোরক্ষপুরের ১৫ মাইল উত্তর-পশ্চিমে বুলিয়াRead More →

হারিয়ে যাওয়া চুনারুরা

যখন কলকারখানা গড়ে ওঠেনি, তখনও কিন্তু মানুষের বসতবাড়ি থেকে রাজপ্রাসাদ, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপত্য তৈরি হয়েছে। তখন ছিল না সিমেন্ট। তখন ছিল চুন-সুরকির গাঁথনি। আর এই চুন তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন একদল মানুষ, যাঁরা পরিচিত ছিলেন “চুনারু” নামে। রাঢ়-বাংলার বিভিন্ন স্থানে একসময় ছিল চুনারুদের চুন তৈরির কারবার। সাধারণত চার প্রকার চুনRead More →

জৈন-বৌদ্ধ দর্শন ও জগত জুড়ে দড়ির খেলায় শ‍্যামা মা

মানুষের ধর্মবিশ্বাসে স্ব‍র্গ ও মর্ত‍্যের মধ্যে যোগাযোগ রাখে যে বস্তুটি, তার নাম—দড়ি। মানুষ মারা গেলে বাঁশের অস্থায়ী খাটিয়ায় শ্মশানে নিয়ে যাবার জন্য দড়ি পাকানো হয় মৃতের বাড়িতেই। বোধিজ্ঞান লাভ করে গৌতম বুদ্ধ যখন প্রথমবার জন্মভূমি কপিলাবস্তুতে এলেন, তখন আত্মীয়-স্বজনের অনুরোধে কিছু অলৌকিক শক্তি দেখিয়েছিলেন বলে অশ্বঘোষ তাঁর “বুদ্ধচরিত” গ্রন্থে জানিয়েছেন।Read More →

রামরাজ্যের স্মরণে রাষ্ট্রীয় রাজনীতি

রাষ্ট্র হিসেবে ভারত তার কৃষ্টি, সভ্যতা, ঐতিহ্য, নৈতিকতাকে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রনৈতিক কর্তব্যকে যে পুরুষের মাধ্যমে রূপায়িত হতে দোখেছে আমাদের সভ্যতার ইতিহাসে তিনি আর কেউই নন, মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরাম। আজকের যে ভারতকে আমরা দেখি, যে অখণ্ড ভারতের ছবি আঁকি– তার প্রথম রূপকার রামচন্দ্র। তাই রামচন্দ্র ও রামায়ণের ব্যাখ্যায় রবি ঠাকুরRead More →

জাপান যাত্রী

বিশ শতকের প্রথমার্ধে রবীন্দ্র- ওকাকুরা সম্পর্ক বাংলা, বাঙালি ও জাপানের সঙ্গে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। কারণ ওকাকুরা ছিলেন জাপানের জাতীয় জীবনের নবচেতনার ধারক ও বাহক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওকাকুরার কাছেই এশিয়াবাদ বা এশিয়ানিজম অথবা প্যান এশিয়ানিজম যাকে বাংলায় বলা যেতে পারে ‘প্রাচ্যভাতৃবাদ’ সম্পর্কে এক নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন। ব্যক্তিগত পর্যায়েRead More →

গিরীন্দ্রশেখর বসুঃ বাঙালি মনোবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসক

গিরীন্দ্রশেখর তখন প্রেসিডেন্সির ছাত্র। তখনই বছর সতেরোর গিরীন্দ্রের সঙ্গে ন’ বছরের ইন্দুমতীর বিয়ে হয়ে গেল। না, ডাক্তারি পড়া আটকায়নি। সে তো সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু অসাধারণ যা, এম বি ডাক্তার থেকেই এক দিন গিরীন্দ্রশেখর ‘মানুষের মনের ডাক্তার’ হয়ে গেলেন। হয়ে উঠলেন ভারত তথা এশিয়ায় মনোবিজ্ঞানের জনক। যখন মনস্তত্ত্ব নিয়ে তাঁর জ্ঞানRead More →

বৌদ্ধ ভৌমী তারা এখন হিন্দু ধর্মের বাস্তুদেবতা

ভূমির নামে প্রচলিত যে দেবীর পুজো, তিনিই “ভৌমী তারা।” “খ” অর্থাৎ আকাশ থেকে বহু দূরে বলে তিনি “খদূরবাসিনী” নামেও পরিচিতা। আদিতে এই দেবী ছিলেন এক বৌদ্ধ দেবী, পরবর্তী সময়ে বিবর্তনের পথে তিনি হয়ে যান হিন্দুদের বাস্তুদেবতা। কিন্তু কিভাবে ভৌমী তারা থেকে তিনি বাস্তুদেবতা হলেন, সে কথা বলার আগে আমরা একটুRead More →