প্রতীক্ষার অবসান। প্রকাশিত হল ২০২৭ সালের সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) পরিচালিত দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি। শুক্রবার সন্ধ্যায় বোর্ডের তরফে পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে দুই শ্রেণিরই পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত হয়েছে সকাল সাড়ে ১০টা। পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের সরকারি ওয়েবসাইট cbse.gov.in থেকে সম্পূর্ণ সময়সূচি ডাউনলোড করতে পারবেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পরীক্ষা শুরুর ১০১ দিন আগেই পরীক্ষার নির্ঘণ্ট প্রকাশ করল সিবিএসই। বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালে দশম শ্রেণির পরীক্ষায় বসতে চলেছে ২৬ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া। মোট ৮৩টি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে। অন্য দিকে, দ্বাদশ শ্রেণিতে ১২১টি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে ১৯ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী।
বোর্ড জানিয়েছে, স্কুলগুলির তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের তালিকা বা ‘লিস্ট অফ ক্যান্ডিডেটস’ (এলওসি) জমা না পড়লেও পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে পড়ুয়ারা হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে পারবে। পাশাপাশি দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজ়ামিনেশন (জেইই) এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)-এর মতো সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষার সম্ভাব্য সূচির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
দশম শ্রেণির পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি পেন্টিং দিয়ে শুরু হবে পরীক্ষা। ১৭ ফেব্রুয়ারি রয়েছে অঙ্কের (স্ট্যান্ডার্ড ও বেসিক) পরীক্ষা। ২২ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞান, ২৬ ফেব্রুয়ারি ইংরেজি, ৩ মার্চ হিন্দি এবং ৮ মার্চ সমাজবিজ্ঞানের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
অন্য দিকে, দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও ১৬ ফেব্রুয়ারি পদার্থবিদ্যা দিয়ে শুরু হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রসায়ন, ৫ মার্চ ইংরেজি, ৯ মার্চ গণিত, ১৬ মার্চ অর্থনীতি, ২৫ মার্চ জীববিজ্ঞান, ২৭ মার্চ ইতিহাস এবং ১ এপ্রিল বিজনেস স্টাডিজ়ের পরীক্ষা নির্ধারিত হয়েছে। বাকি বিষয়গুলির পরীক্ষার দিনক্ষণ জানতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সম্পূর্ণ সূচি দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাস নাগাদ এই দুই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত কয়েক বছর ধরে পরের বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার শুরুর দিন জানা যেত আগের বছরের ফলপ্রকাশের দিনই। তবে এ বার সেই প্রথার ব্যতিক্রম ঘটেছে। পাশাপাশি জনগণনার কারণে চলতি বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক—দু’টি পরীক্ষাই পিছিয়ে যেতে পারে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের নজর এখন পর্ষদ ও সংসদের পরবর্তী ঘোষণার দিকে।

